১২ ঘণ্টা ধরে সাপের মতো ঘুরছে মৃতদেহ! গীতাঞ্জলি এক্সপ্রেসে চরম শিউরে ওঠার মতো কাণ্ড, নড়েচড়ে বসতেই রেলমন্ত্রীর দরবারে চিঠি!

ট্রেনেই ক্যানসার আক্রান্তের করুণ মৃত্যু! রেলের উদাসীনতায় ১২ ঘণ্টা মৃতদেহ সঙ্গেই নিয়ে যেতে বাধ্য হলেন গীতাঞ্জলি এক্সপ্রেসের ক্ষুব্ধ যাত্রীরা

ডিজিটাল ডেস্ক: ট্রেনে কোনো যাত্রীর মৃত্যু হলে যেখানে অতি দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সাহায্য ও দেহ উদ্ধার করার নিয়ম, সেখানে দেখা গেল চরম অমানবিকতা ও প্রশাসনিক গাফিলতির নজির। ক্যানসার আক্রান্ত এক যাত্রীর মৃত্যুর পর, প্রায় ১২ ঘণ্টা ধরে সেই মৃতদেহ নিয়েই পথ চলল মুম্বই-হাওড়া গীতাঞ্জলি এক্সপ্রেস (১২৮৫৯)। বারবার চিৎকার, আকুতি ও রেলকর্মীদের জানানোর পরেও কোনো সমাধান মেলেনি। শেষমেশ উপায় না পেয়ে সমাজমাধ্যমে রেলমন্ত্রীকে ট্যাগ করে পোস্ট করতেই তড়িঘড়ি নড়েচড়ে বসে রেল প্রশাসন। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে রেলের ভূমিকা ও যাত্রী নিরাপত্তা নিয়ে মারাত্মক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

জানা গিয়েছে, মৃতের নাম বিনোদ পাসওয়ান। তিনি পশ্চিমবঙ্গের ভাটপাড়ার বাসিন্দা। মুম্বইয়ের এক নামী ক্যানসার হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে হাওড়া ফিরছিলেন তিনি। শনিবার সকাল ৮টা নাগাদ চলন্ত ট্রেনেই তাঁর মৃত্যু হয়। আকস্মিক এই ঘটনায় শোকস্তব্ধ পরিবার একটি চাদর দিয়ে দেহটি ঢেকে দেন। সহযাত্রীরা সঙ্গে সঙ্গে ট্রেনের টিকিট পরীক্ষক (TTE) ও রেলকর্মীদের খবর দেন এবং পরবর্তী বড় কোনো উপযুক্ত স্টেশনে দেহটি নামিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আরজি জানান।

কিন্তু অভিযোগ, সকাল গড়িয়ে দুপুর, দুপুর গড়িয়ে রাত হয়ে গেলেও রেলের তরফে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। নির্ধারিত সময়ের প্রায় ১২ ঘণ্টা দেরিতে চলা এই ট্রেনের কামরায় মৃতদেহের সঙ্গে কাটাতে বাধ্য হয়ে চরম আতঙ্ক ও অস্বস্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। ট্রেনটি একাধিক বড় জংশন স্টেশন অতিক্রম করলেও রেলের কোনো আধিকারিক বা চিকিৎসাকর্মী এগিয়ে আসেননি।

রেলমন্ত্রীকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্যাগ, তারপরেই নাটকীয় মোড়: পরিস্থিতি দুর্বিষহ হয়ে উঠলে শেষমেশ ট্রেনে থাকা এক যাত্রী ক্ষোভে ফুঁসে উঠে পুরো ঘটনা জানিয়ে সমাজমাধ্যমে সরাসরি রেলমন্ত্রীকে ট্যাগ করে পোস্ট করেন। সেই পোস্ট ভাইরাল হতেই তড়িঘড়ি নড়েচড়ে বসে রেল দপ্তর। সন্ধ্যা ৭টার পর চক্রধরপুর রেল ডিভিশনের নজরে বিষয়টি আসে। এরপর ট্রেনটি ঝাড়খণ্ডের টাটানগর স্টেশনে পৌঁছলে রেল সুরক্ষা বাহিনী (RPF) এবং জিআরপি (GRP)-র কর্মীরা দ্রুত কামরায় ঢুকে মৃতদেহটি উদ্ধার করেন।

টাটানগর আরপিএফ পোস্টের ইনচার্জ রাকেশ মোহন জানান, ঘটনাটি অন্য ডিভিশনের এলাকায় ঘটেছিল। সন্ধ্যা ৭টার পর খবর পাওয়া মাত্রই টাটানগরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সমস্ত নথিপত্র পরীক্ষার পর দেহটি পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। মৃতের ছেলে রাহুল পাসওয়ান জানান, তাঁরা একটি বেসরকারি অ্যাম্বুল্যান্সে করে বাবার দেহ ভাটপাড়ার বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করছেন।

প্রশ্নের মুখে রেলের মানবতা ও পরিষেবা: উৎসব বা সাধারণ দিনে রেলে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণে শোরগোল পড়েছে দেশজুড়ে। কোনো যাত্রীর মৃত্যু হলে কেন এতটা সময় অপচয় হলো? সাধারণ যাত্রীরা বারবার জানানো সত্ত্বেও কেন তা গুরুত্ব দিয়ে দেখা হলো না? যদিও চক্রধরপুর ডিভিশন দেরিতে খবর পাওয়ার কথা জানিয়েছে, তবে প্রথম কোন ডিভিশনে গাফিলতি হয়েছিল তা নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন থেকেই যাচ্ছে। রেলের এমন অসংবেদনশীল আচরণ যাত্রীদের নিরাপত্তার পাশাপাশি মৃতদেহের প্রতি ন্যূনতম সম্মান প্রদর্শন নিয়েও বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল।

Rick Sarkar
  • Rick Sarkar

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *