জালিয়াতি রুখতে OTP-তে বদল, প্রতারণা রুখতে TRAI-এর ঐতিহাসিক পদক্ষেপ

অনলাইন কেনাকাটা থেকে শুরু করে ইন্টারনেট ব্যাঙ্কিং—প্রতিটি ডিজিটাল পদক্ষেপে নিরাপত্তাকবচ হিসেবে কাজ করে ‘ওটিপি’ (OTP)। কিন্তু ডিজিটাল লেনদেনের পাশাপাশি দেশে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ওটিপি সংক্রান্ত সাইবার জালিয়াতি। আসল ওটিপি মেসেজের আদলে হুবহু ভুয়ো মেসেজ তৈরি করে সাধারণ মানুষের বিপুল টাকা হাতানোর ঘটনা এখন নিত্যদিনের ছবি। এই ক্রমাগত বাড়তে থাকা অনলাইন অপরাধে লাগাম টানতে এবার বড়সড় পরিবর্তনের পথে হাঁটছে দেশের টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘ট্রাই’ (TRAI)। ওটিপি মেসেজের পুরো কাঠামো ও প্রেরণের ধরনটাই পাল্টে ফেলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

মেসেজের প্রিভিউতে আর দৃশ্যমান হবে না ওটিপি!

প্রস্তাবিত নতুন নিয়ম কার্যকর হলে সাধারণ ফোনের এসএমএস খুললেই বোঝা যাবে কোন সংস্থা থেকে এবং ঠিক কী উদ্দেশ্যে ওই ওটিপি পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া বার্তাটিতে ওটিপির মেয়াদকাল বা ‘ভ্যালিডিটি টাইমিং’ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা থাকবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, স্মার্টফোনের লক স্ক্রিন বা মেসেজ পপ-আপ প্রিভিউতে ওটিপি কোডটি আর সরাসরি ভেসে উঠবে না। আশেপাশের কেউ যাতে কৌতূহলবশত বা অসৎ উদ্দেশ্যে ওটিপি দেখে নিতে না পারে, সেই গোপনীয়তা বজায় রাখতেই এই ব্যবস্থা।

উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে সাইবার প্রতারণা

জাতীয় সাইবার অপরাধ রিপোর্টিং পোর্টালের তথ্য বিশ্লেষণ করলে এই পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ২০২১ সালে সমগ্র ভারতে যেখানে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগের সংখ্যা ছিল ২.৬২ লক্ষ, ২০২৫ সালে তা লাফিয়ে বেড়ে পৌঁছেছে অবিশ্বাস্য ২৪.০২ লক্ষের ঘরে। আর্থিক ক্ষতির পরিমাণও ৫৫১ কোটি টাকা থেকে বহু গুণ বৃদ্ধি পেয়ে ২২,৪৯৫ কোটি টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। এই লাগামহীন প্রতারণা রোধেই ট্রাই নির্দেশিকা সংশোধনের চিন্তা ভাবনা করছে।

সাধারণ মানুষের সুবিধাসমূহ

১. আসল ও ভুয়ো চেনা সহজ: কোন কাজের জন্য ওটিপি (যেমন: টাকা পাঠানো নাকি পাসওয়ার্ড পরিবর্তন) এবং কোন ব্যাঙ্ক পাঠিয়েছে তা স্পষ্ট উল্লেখ থাকায় বিভ্রান্তি কমবে।

২. নতুন ব্যবহারকারীদের সুবিধা: যাঁরা ডিজিটাল লেনদেনে নতুন, তাঁদের বিভ্রান্তি দূর হবে।

৩. প্রাইভেসি বৃদ্ধি: নোটিফিকেশন বার বা লক স্ক্রিনে গোপন কোড দেখা না যাওয়ায় অনাকাঙ্ক্ষিত নজরদারি এড়ানো যাবে।

নতুন ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা কোথায়?

যদিও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, শুধুমাত্র ওটিপির ফরম্যাট বদলালেই সাইবার অপরাধ শতভাগ বন্ধ করা সম্ভব নয়।

  • সাইবার অপরাধীরা একই ধাঁচের বিন্যাস (Format) হুবহু নকল করে নকল ওটিপি পাঠানোর ছক কষতে পারে।

  • বহু আন্তর্জাতিক ই-কমার্স বা মেসেজিং অ্যাপ (যেমন: হোয়াটসঅ্যাপ) প্রযুক্তিগতভাবে অন্য নিয়ম মেনে কাজ করে, তাই সব প্ল্যাটফর্মে এটি একসূত্রে কার্যকর করা কঠিন।

  • সর্বাগ্রে, যদি কোনো ব্যক্তি নিজে অসাবধানবশত কোনো ফোন কলে বা ফিশিং লিঙ্কে ওটিপি কারও সঙ্গে শেয়ার করে দেন, তবে কেবল মেসেজের গঠন পরিবর্তন তাঁকে সুরক্ষা দিতে পারবে না।

সুরক্ষায় আপনার করণীয়

মেসেজের রূপ পরিবর্তিত হলেও ব্যক্তিগত সচেতনতাই শেষ কথা। কোনো অবস্থাতেই মোবাইল ফোনে আসা ওটিপি অচেনা কোনো ব্যক্তির সাথে শেয়ার করবেন না। মেসেজে থাকা যেকোনো সন্দেহজনক লিঙ্কে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকুন এবং সমস্যায় পড়লে সরাসরি সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কের নিজস্ব অ্যাপ বা ওয়েবসাইটের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *