প্রেমিকের প্রেমে হাবুডুবু! সোজা চড়লেন মোবাইল টাওয়ারে, তারপর ভিডিও কলেই সারলেন বিয়ে!

উত্তরপ্রদেশের বাহরাইচ জেলায় ভালোবাসা এবং সাহসিকতার এক অবিশ্বাস্য ও নাটকীয় কান্ড ঘটিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করেছেন এক তরুণী। নিজের পছন্দের প্রেমিককে বিয়ে করার কড়া দাবিতে গ্রামের ১০০ ফুট উঁচু একটি বিপজ্জনক মোবাইল টাওয়ারে উঠে পড়েন ওই তরুণী। পরিবারের তীব্র আপত্তি ও পারিবারিক বিরোধ সত্ত্বেও নিজের একগুঁয়ে সিদ্ধান্তে একদম অনড় ছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের মধ্যস্থতায় ও পরিবারের সম্মতিতে মুম্বইয়ে কর্মরত প্রেমিকের সঙ্গে সরাসরি ভিডিও কলের মাধ্যমে অনলাইনে বিয়ে বা নিকাহ সম্পন্ন হয়। আর বিয়ের সেই অদ্ভুত আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পরেই অবশেষে হাসি মুখে টাওয়ার থেকে নিরাপদে নিচে নেমে আসেন ওই তরুণী। হৃদয়স্পন্দন থামিয়ে দেওয়ার মতো এই সম্পূর্ণ চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের বাহরাইচ জেলার মোতিপুর থানা এলাকার চৌধরী গ্রামে, যা এখন পুরো নেটপাড়ায় রীতিমতো ভাইরাল।

সংবাদমাধ্যমের বিশদ প্রতিবেদন ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ওই জেদী তরুণীর সঙ্গে নুরউদ্দিন নামে স্থানীয় এক যুবকের বেশ দীর্ঘদিন ধরে গভীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। জীবিকা ও কাজের সূত্রে প্রায় দু’মাস আগে ওই যুবক উত্তরপ্রদেশ ছেড়ে সুদূর মুম্বইয়ে চলে যান। দু’জনে নিজেদের সম্পর্ককে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়েতে রূপ দিতে চাইলেও, দুই পরিবারের পারস্পরিক আপত্তি ও বিরোধের কারণে বিয়ে নিয়ে চরম জটিলতা ও বিবাদ তৈরি হয়। শুক্রবার সকালে মায়ের সঙ্গে নিজের বিয়ে নিয়ে তীব্র বচসার পর রাগে ও অভিমানে ঘর থেকে একাই বেরিয়ে পড়েন তরুণী। এরপর সোজাসুজি গ্রামের একটি উঁচুমাপের মোবাইল টাওয়ারে তরতর করে উঠে পড়েন তিনি। শুধু ওঠাই নয়, টাওয়ারের ওপর থেকে চিৎকার করে তিনি হুমকি দেন যে, প্রেমিকের সঙ্গে তাঁর বিয়ে না দিলে তিনি সঙ্গে সঙ্গে টাওয়ার থেকে নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হবেন।

ঘটনার আকস্মিকতায় এলাকায় তীব্র শোরগোল পড়ে যায় এবং খবর পেয়ে তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছয় মোতিপুর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। তরুণীকে অক্ষত ও নিরাপদে নিচে নামিয়ে আনার জন্য পুলিশকর্মী, পরিবার ও স্থানীয় গ্রামবাসীরা টানা বোঝানোর চেষ্টা চালাতে থাকেন। কিন্তু নিজের একবগ্গা দাবিতে শক্ত হয়ে অনড় থাকেন তরুণী। দেখতে দেখতে প্রায় চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা ধরে চলে এই রক্তহিম করা হাই-ভোল্টেজ টানাপোড়েন। পরিস্থিতি ক্রমশ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে শেষ পর্যন্ত দুই পরিবারের মধ্যবয়সী সদস্যদের সঙ্গে জরুরি আলোচনা করে বিয়েতে রাজি করানো হয়। এরপর আর বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে স্থানীয় মসজিদ থেকে কাজিকে ডেকে আনা হয়। মুম্বইয়ে অবস্থানরত পাত্রের সঙ্গে মোবাইল স্ক্রিনে ভিডিও কলের মাধ্যমে তাত্ক্ষণিক যোগাযোগ করা হয় এবং ইসলামী নিয়ম মেনে দুই পক্ষের সম্মতি নিয়ে অনলাইনেই সম্পন্ন হয় তাঁদের ঐতিহাসিক নিকাহ।

অনলাইনে বিয়ের সব আনুষ্ঠানিকতা নিখুঁতভাবে শেষ হওয়ার পরেই তরুণী শেষ পর্যন্ত শান্ত হন এবং মোবাইল টাওয়ার থেকে নিচে নেমে আসতে সম্মতি জানান। স্থানীয় মহিলা পুলিশকর্মীদের অত্যন্ত সতর্ক সহায়তায় তাঁকে নিরাপদে নিচে নামিয়ে আনা হয়। নাটকীয় এই ঘটনার পর পুলিশ তরুণী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের থানায় নিয়ে গিয়ে বিস্তারিত কাউন্সেলিং বা মনস্তাত্ত্বিক পরামর্শ প্রদান করে। পরে তরুণীকে তাঁর মায়ের সঙ্গে নিরাপদে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তবে সম্পূর্ণ বিয়ের পর দুই পরিবারের মধ্যকার পুরনো কোন্দল পুরোপুরি মিটেছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *