‘২৫০% শুল্কের ভয়ে যুদ্ধ থামাল ভারত-পাকিস্তান!’ আবার ট্রাম্পের গলায় অবিশ্বাস্য বিস্ফোরক দাবি!

আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি এবং কূটনীতির ময়দানে ফের এক প্রচণ্ড শোরগোল ফেলে দিলেন আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মার্কিন মিডটার্ম নির্বাচনের তোড়জোড়ের মাঝেই ফ্লোরিডার এক বিশাল জনসভায় দাঁড়িয়ে তিনি পুনরায় দাবি করেছেন যে, ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যকার ভয়াবহ সামরিক সংঘাত ও সম্ভাব্য যুদ্ধ তিনিই এককভাবে বন্ধ করেছিলেন। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, দুই পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্রকে আমেরিকার পক্ষ থেকে ২৫০ শতাংশ চড়া শুল্ক বা ট্যারিফ চাপানোর কড়া হুমকি দিয়ে তিনি নিরস্ত করেন। তাঁর এই কঠোর অর্থনৈতিক বাণিজ্যের চরম ব্যবস্থার কথা শুনেই দুই দেশ পিছু হটতে বাধ্য হয়েছিল এবং সীমান্তে অবিলম্বে রক্তক্ষয়ী গোলাগুলি বন্ধ করে দেয়। তা সত্ত্বেও তাঁকে আন্তর্জাতিক নোবেল শান্তি পুরস্কার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন এই প্রভাবশালী আমেরিকান মার্কিন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় আয়োজিত ওই রাজনৈতিক জনসভায় সমর্থকদের উদ্দেশে ট্রাম্প আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দাবি করেন যে, তিনি তাঁর শাসনকালে বিশ্বে অন্ততঃ আট-আটটি রক্তক্ষয়ী বিশ্ব যুদ্ধ সফলভাবে থামিয়েছেন। এর মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তানের যুদ্ধ রোখাকে তিনি নিজের অন্যতম প্রধান ঐতিহাসিক কৃতিত্ব হিসেবে তুলে ধরেন। ট্রাম্প বলেন, “আপনারা ভাবুন, ভারত এবং পাকিস্তানের মতো দুটি পরমাণু অস্ত্রধারী বিশ্ব শক্তির সম্ভাব্য ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ আমি একাই থামিয়েছি! আর এই অসম্ভব কাজটা আমি করেছি বাণিজ্যকে চালিকাশক্তি বানিয়ে। আমি স্পষ্ট ভাষায় দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বকে জানিয়ে দিয়েছিলাম—আপনারা যদি রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বন্ধ না করেন, তবে আমেরিকার সঙ্গে কোনো ব্যবসা-বাণিজ্য চালাতে পারবেন না, মোটা টাকা উপার্জন করাও বন্ধ হয়ে যাবে। আমি সাফ বলেছিলাম, দু’দেশের ওপরই ২৫০ শতাংশ ভারী বাণিজ্য শুল্ক চাপাব, যাতে তোমরা মার্কিন বাজার কোনোভাবেই ব্যবহার করতে না পারো। আমার এই কড়া হুমকিতে ওরা ভীষণ মুষড়ে পড়েছিল, রেগেও গিয়েছিল, কিন্তু ঠিক তার পরপরই সীমান্তে গোলাগুলি চালানো বন্ধ করে যুদ্ধ থামিয়ে দেয়।”

স্মরণ করা যেতে পারে, জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে এক ভয়াবহ সন্ত্রাসবাদী হামলার জবাবে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী গত ২০২৫ সালের মে মাসে সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরে অত্যন্ত নিখুঁত সামরিক হামলা চালিয়েছিল। ৭ মে শুরু হওয়া ভারতের সেই ঐতিহাসিক ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর মাধ্যমে একাধিক জঙ্গি ঘাঁটি সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং ১০ মে তাতে ইতি টানা হয়। ঠিক সেই উত্তপ্ত সামরিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প দাবি করেন যে, তাঁর সরাসরি অর্থনৈতিক হস্তক্ষেপর কারণেই সেবার বড় ধরনের বিশ্বযুদ্ধ এড়ানো সম্ভব হয়েছিল।

তবে আমেরিকার নির্বাচনে ট্রাম্পের এই অভূতপূর্ব দাবি নিয়ে তোলপাড় শুরু হতেই কূটনৈতিক স্তরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে সরাসরি কোনো বিতর্কিত মন্তব্য না করলেও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রক শুরু থেকেই অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে এসেছে যে, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘর্ষ বিরতি বা সমঝোতার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমেই অর্জিত হয়েছিল। ভারত বারবার অত্যন্ত কড়া ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে যে, তাদের সীমান্ত নিরাপত্তা বা সামরিক সিদ্ধান্তে কোনো তৃতীয় দেশের মধ্যস্থতা বা হস্তক্ষেপের প্রশ্নই ওঠে না। কিন্তু বিস্ময়কর বিষয় হলো, ট্রাম্পের এই দাবির পরপরই পাকিস্তান সরকার তাঁর এই বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়ে ট্রাম্পের দাবিতে একপ্রকার সমর্থনের সিলমোহর দিয়ে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল মনে করছে, মিডটার্ম নির্বাচনের আগে মার্কিন ভোটব্যাঙ্ক টানতেই ট্রাম্প পুনরায় ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের ঘটনাটিকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *