অরুণাচল সীমান্তে ভারত-চীন সেনার তুমুল সংঘাত! অবশেষে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করল আইটিবিপি!

অরুণাচল প্রদেশের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা (LAC) বরাবর ভারত ও চীনের সেনাবাহিনীর মধ্যে নতুন করে সংঘাতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। দেশের সীমান্ত রক্ষায় নিয়োজিত ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত পুলিশ (ITBP)-র ডিরেক্টর জেনারেল শত্রুজিৎ কাপুর রাজস্থানের আলওয়ারে জওয়ানদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখার সময় এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আনেন। এই প্রথম কোনো শীর্ষ কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিকভাবে অরুণাচল সীমান্তে চীনের উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড ও সংঘাতের বিষয়টি স্বীকার করলেন।
আইটিবিপি প্রধানের এই মন্তব্যের পর দেশজুড়ে ব্যাপক জল্পনা এবং রাজনৈতিক বিতর্কের ঝড় ওঠে। পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে তাৎক্ষণিকভাবে বিদেশ মন্ত্রকের (MEA) তরফে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি করা হয়েছে। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট জানান, চীনা সেনা নির্দিষ্ট টহলদারির নিয়ম বা পেট্রোলিং প্যাটার্ন থেকে বিচ্যুত হলেই সীমান্ত এলাকায় আচমকা উত্তেজনা তৈরি হয়। তবে দুই দেশের মধ্যে যেকোনো প্রকার ভুল বোঝাবুঝি বা সামরিক ভুল পদক্ষেপ এড়াতে কূটনৈতিক ও সেনাপ্রধান স্তরে প্রতিনিয়ত আলোচনা প্রক্রিয়া চালু রয়েছে। সীমান্তে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সামগ্রিক উন্নতির জন্য অত্যন্ত আবশ্যক বলে তিনি জানান।
যেকোনো সম্ভাব্য সংঘাতের কঠোর জবাব দিতে ভারতীয় বাহিনী ইতিমধ্যেই নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আধুনিকীকরণ করেছে। আইটিবিপি প্রধান জানান, সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার করতে বিশেষ ড্রোন প্লাটুন তৈরি করা হয়েছে। গালওয়ান উপত্যকার মতো অপ্রীতিকর ঘটনা মোকাবিলা করতে সেনার জন্য ‘স্ট্রাইক’ নামক একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ কোর্সও চালু হয়েছে।
উলেখ্য, ২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষের পর দুই দেশের সম্পর্কে চরম তিক্ততা তৈরি হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের অক্টোবরে পূর্ব লাদাখের ডেপসাং ও ডেমচক থেকে সেনা সরানোর বিষয়ে দুই দেশ সমঝোতায় পৌঁছায়। এরপর রাশিয়ার কাজান ও চীনের তিয়ানজিনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে একাধিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সদ্য সমাপ্ত নয়াদিল্লি ব্রিকস সম্মেলনেও প্রধানমন্ত্রী মোদী স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সংবেদনশীলতা ও স্বার্থ—এই তিনটি মূল স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করেই ভারত ও চীনের সম্পর্ক এগিয়ে চলা উচিত। সীমান্তে উত্তেজনা কমিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায় বর্তমানে কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।