আছড়ে পড়তে চলেছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’! ২৬ অক্টোবরের মধ্যে বড় বিপদের পূর্বাভাস, চরম সতর্কতা জারি!

আইএমডির (IMD) সাম্প্রতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২৬ অক্টোবরের মধ্যে বঙ্গোপসাগরে একটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় তৈরি হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানা গেছে, এই ঘূর্ণাবর্তটি ঘনীভূত হয়ে আগামী দুই দিনের মধ্যে, অর্থাৎ ২৮ অক্টোবরের কাছাকাছি সময়ে উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও সংলগ্ন দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলের দিকে এগিয়ে আসতে পারে। সম্ভাব্য এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের কথা মাথায় রেখে ইতিমধ্যেই ওড়িশা সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাপক সতর্কতা জারি করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের মন্ত্রী সুরেশ পূজারী জানিয়েছেন যে, সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় সমস্ত জেলা প্রশাসনকে সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, পূর্ব-মধ্য ও সংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে যে লঘুচাপটি তৈরি হয়েছিল, তা ক্রমশ শক্তি সঞ্চয় করছে। ধাপে ধাপে এর তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নচাপ এবং পরবর্তীতে গভীর নিম্নচাপে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এরপর আগামী ২৬ শে অক্টোবর সকালের মধ্যে পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে এটি একটি পূর্ণাঙ্গ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী, এই ঝড়টি পূর্ণ ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিলে তার নাম হবে ‘অর্ণব’ (Arnab), যে নামটি প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ। বাংলা ভাষায় ‘অর্ণব’ শব্দের অর্থ সাগর। ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার পর এটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আরও বেশি শক্তি সংগ্রহ করবে বলে মনে করছেন আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা। তবে এর নির্দিষ্ট গতিপথ এবং ঠিক কোথায় এটি আছড়ে পড়বে, সে বিষয়ে এখনও সম্পূর্ণ স্পষ্ট চিত্র পাওয়া যায়নি। আইএমডি সূত্রে জানানো হয়েছে যে, ২৬ অক্টোবর থেকে পশ্চিম-মধ্য ও সংলগ্ন পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে বাতাসের গতিবেগ প্রতি ঘণ্টায় ৭০ থেকে ৮০ কিলোমিটার ছাড়িয়ে যেতে পারে এবং দমকা হাওয়ার বেগ ৯০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।

এই সাইক্লোনের প্রভাবে আগামী ২৭ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ওড়িশা এবং উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশে বৃষ্টির তীব্রতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। কিছু কিছু এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী এবং অত্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাতেরও সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে মৎস্যজীবীদের জন্য কঠোর নির্দেশিকা জারি করেছে প্রশাসন। পূর্ব-মধ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে এবং পরবর্তীতে সংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় মৎস্যজীবীদের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ওড়িশার মৎস্যজীবীদের দ্রুত কূলে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঝড়ের সঠিক গতিপ্রকৃতি এবং ল্যান্ডফলের স্থান সম্পর্কে জানতে আবহাওয়া দফতরের পরবর্তী বুলেটিনের দিকেই এখন নজর রেখেছে ওড়িশা ও অন্ধ্রপ্রদেশ প্রশাসন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *