‘এতদিন কোথায় ছিলেন?’ চোরবাগান কাণ্ডে সমবেদনা জানাতে গিয়েই রোষানলে সাংসদ!

চোরবাগানের মর্মান্তিক বিপর্যয় কেড়ে নিয়েছে আরামবাগের একই পরিবারের তিন সদস্যকে। সেই শোকস্তব্ধ পরিবারের সঙ্গে দেখা করে ফেরার পথেই নিজ লোকসভা কেন্দ্রেই তীব্র গণরোষ ও বিক্ষোভের মুখে পড়লেন এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া সাংসদ মিতালি বাগ। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের প্রবল বিক্ষোভ, ‘গো ব্যাক’ স্লোগান এবং এমনকি তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে ইট ছোড়ার অভিযোগ ঘিরে এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
চোরবাগান ট্র্যাজেডির বলি এক পরিবারের তিনজন
গত শনিবার উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীনের পুজোমণ্ডপে অতিরিক্ত ভিড় ও হুড়োহুড়ির জেরে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যু হয়। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান আরামবাগের বালিয়াগ্রামের মলয়পুরের পিয়ালী প্রামাণিক (২৩), তাঁর বড় ননদ টগর বেইজ (৩৭) এবং টগরের ছেলে সন্দীপ বেইজ। নিহত সন্দীপ ও টগরের আদি বাড়ি পূর্ব বর্ধমান হলেও তাঁরা কলকাতায় ঠাকুর দেখতে পিয়ালীদের বাড়ি এসেছিলেন। পরবর্তীতে বাড়ির আট সদস্য মিলে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দিলেও ওই পুজোমণ্ডপের বিপর্যয়ে প্রাণ হারান তিনজন।
শোকাহত পরিবারকে সমবেদনা জানাতে গিয়ে বিপত্তি
সোমবার মৃতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে বালিয়া গ্রামে পৌঁছন সাংসদ মিতালি বাগ। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শোকস্তব্ধ পরিবারের সঙ্গে দেখা করে বেরোনোর পথেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। স্থানীয় বাসিন্দারা সাংসদের গাড়ি ঘিরে ধরে তীব্র বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। অভিযোগ ওঠে, “এতদিন কোথায় ছিলেন?”—এই প্রশ্ন তুলে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দেওয়া হয় এবং তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছোড়া হয়। উত্তপ্ত পরিস্থিতি চলাকালীন বিক্ষুদ্ধ জনতা থেকে ‘বিজেপি জিন্দাবাদ’ ও ‘তৃণমূলের কালো হাত ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও’ স্লোগানও শোনা যায়। পরে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
কী বললেন সাংসদ মিতালি বাগ?
পুরো ঘটনাটি নিয়ে প্রাথমিক অবস্থায় মুখ খুলতে না চাইলেও পরে মিতালি বাগ জানান, কিছু অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি তাঁর গাড়ি আটকে বিক্ষোভ দেখান। তাঁরা কেন এমন করলেন, সে বিষয়ে তাঁর স্পষ্ট জানা নেই। তবে তিনি যে সম্পূর্ণ মানবিক কারণে শোকাহত পরিবারের পাশে দাঁড়াতে গিয়েছিলেন, তা স্পষ্ট করে মিতালি বলেন, ” কিছুদিন আগে আমার নিজের মা মারা গিয়েছেন। আপনজন হারানোর বেদনা কী, তা আমি হাড়ে হাড়ে বুঝি। একজন মানুষ হিসেবেই আমি তাঁদের পাশে দাঁড়াতে গিয়েছিলাম।”
রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে
সাংসদের গাড়ি ঘিরে এই বিক্ষোভের ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতিতে তীব্র শোরগোল শুরু হয়েছে। বিরোধীরা এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করলেও, এই ঘটনার সঙ্গে তাঁদের দলের কোনও যোগ নেই বলে দাবি করেছেন স্থানীয় বিজেপি নেতা প্রশান্ত দিগার। তাঁর মতে, “জনসাধারণ আজ সাংসদের পাশে নেই। এলাকায় উন্নয়নের কাজ না হওয়ার কারণেই সাধারণ মানুষ ফুসে উঠে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন।” সবমিলিয়ে, চোরবাগানের শোকাবহ আবহেই এই রাজনৈতিক বিক্ষোভ আরামবাগের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ বাড়িয়ে দিয়েছে।