“আমি নাস্তিক নই, হিন্দু বাড়ির ছেলে!” অষ্টমীর সকালে কাঁথিতে হুঙ্কার শুভেন্দুর, নিশানা করলেন কাদের?

অষ্টমীর সকালে কাঁথির ঐতিহ্যবাহী নান্দনিক ক্লাবের পুজো মণ্ডপে সপরিবারে হাজির হয়ে পুজো দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। এ দিন সেখানে মায়ের চরণে পুষ্পাঞ্জলি দিয়ে দেশ ও দশের কল্যাণ কামনা করেন তিনি। পাশাপাশি, নিজেকে গর্বিত সনাতনী ও হিন্দু পরিবারের সন্তান বলে দাবি করে বাম শিবির এবং সমালোচকদের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান। বিশেষ করে, ‘আরশোলা ও ছারপোকা’ মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা।

ঐতিহ্যের ছোঁয়ায় সেজে ওঠা মণ্ডপ

কাঁথির ৩৯ বছরের প্রাচীন এই নান্দনিক ক্লাবের পুজো মণ্ডপ এবার এক অন্য মাত্রা পেয়েছে। মণ্ডপসজ্জা থেকে শুরু করে প্রতিমা— সবেতেই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে অখণ্ড মেদিনীপুরের বীর স্বাধীনতা সংগ্রামীদের ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন ও সংগ্রামের সোনালী ইতিহাস। কলকাতার নামী-দামী পুজোগুলির সঙ্গে সমানে পাল্লা দেওয়া এই থিম দেখতে এ দিন দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। নিজের পাড়ার এই পুজোয় এসে শৈশবের স্মৃতি রোমন্থন করেন শুভেন্দু।

“আমি নাস্তিক নই, সনাতনী হিন্দু”

পুজো দেওয়া শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজের ধর্মীয় বিশ্বাস ও অবস্থান স্পষ্ট করেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “আমি নাস্তিক নই, আমি কমিউনিস্ট নই। আমি সনাতনী হিন্দু। সনাতন ধর্মের নিয়ম-নীতি মেনেই পুজো করি।” নিজের ৫৬ বছরের জীবনের প্রায় পাঁচ দশক ধরে এই পুজোর সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “গত ৫০ বছর ধরে পুজো করে আসছি। ৫-৬ বছর বয়স থেকে এই কাজের সঙ্গে যুক্ত, এটি আমার আস্থার জায়গা।”

বাম ও বিরোধীদের তীব্র নিশানা

পুজো মণ্ডপ থেকেই বামেদের কঠোর ভাষায় আক্রমণ করেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, যারা বড় বড় কথা বলেন বা লেকচার দেন, তাঁরা এই ঐতিহ্য বোঝেন না। কটাক্ষের সুরে তিনি বলেন, “কমিউনিস্টরা এসব করে না। তাঁরা পুষ্পাঞ্জলি দেয় না, চরণামৃত খায় না, কপালে টিকাও লাগায় না।”

এর পরেই রূপক অর্থে ‘আরশোলা ও ছারপোকা’ প্রসঙ্গ টেনে চরম সতর্কবার্তা দেন তিনি। শুভেন্দু বলেন, “এই আরশোলা-ছারপোকা, যাঁদের বাপ-ঠাকুর্দা চিনে থাকে, তাঁদের থেকে সাবধানে থাকবেন। গোটা ভারতবর্ষ জুড়ে এরা বাংলাদেশের মতো অস্থিরতা তৈরি করতে চাইছে। এদের চক্রান্ত সম্পর্কে সবসময় সতর্ক থাকতে হবে।”

পাশাপাশি, সাম্প্রতিক চোরবাগান সংক্রান্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক বিতর্কের জল যে এ দিন কাঁথির পুজো মণ্ডপ থেকেও গড়ায়, তা শুভেন্দুর এই ঝাঁঝালো বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। অষ্টমীর সকালে তাঁর এই মন্তব্য পুজোর আবহেও রাজনৈতিক উত্তাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *