কলকাতায় পুজো দেখতে এসে মর্মান্তিক পরিণতি! চোরবাগানের ভিড়ে প্রাণ গেল বিহারের বাবা-ছেলেরও

কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন পুজো মণ্ডপের ভিড়ে পদপিষ্ট হয়ে সংঘটিত মহাবিপর্যয় কে কেড়ে নিয়েছে বহু তাজা প্রাণ। উত্তর ২৪ পরগনার আগরপাড়ার ১৩ বছরের কিশোর প্রাঞ্জল সরকার থেকে শুরু করে বিহারের মুজফ্ফরপুর থেকে আসা বাবা-ছেলে—এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় একের পর এক পরিবারের আনন্দ মুহূর্তেই বিষাদে বদলে গেছে। এই শোকের জেরে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে স্থানীয় পুজোর সমস্ত আনন্দানুষ্ঠান।

প্রাঞ্জলের মৃত্যুশোকে স্তব্ধ আগরপাড়া

বাবা-মায়ের হাত ধরে সপ্তমীর সন্ধ্যায় চোরবাগান সর্বজনীনে ঠাকুর দেখতে গিয়েছিল ১৩ বছরের প্রাঞ্জল সরকার। কিন্তু মণ্ডপের ভেতরে হঠাৎ শুরু হওয়া হুড়োহুড়ির জেরে বাবা-মায়ের হাত ছেড়ে সে ভিড়ের মধ্যে হারিয়ে যায়। এরপরই পদপিষ্ট হয়ে ওই কিশোরের মৃত্যু হয়। মেধাবী ও প্রাণোচ্ছ্বল প্রাঞ্জলের এই আকস্মিক মৃত্যুতে তার ফ্ল্যাট এবং গোটা পাড়ায় এখন শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এই মহাবিপর্যয়ের জেরে পাড়ার পুজোর সমস্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আনন্দমূলক আয়োজন পুরোপুরি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন উদ্যোক্তারা। শুধুমাত্র পুজোর নিয়মটুকু এবং মণ্ডপের ন্যূনতম আলো জ্বালিয়ে রাখার কথা জানানো হয়েছে। উদ্যোক্তাদের সাফ কথা, এই গভীর শোকে উৎসবের আনন্দ মানায় না।

স্বপ্ন অধরা রইল বিহারের বাবা-ছেলের

অন্যদিকে, ভিনরাজ্য থেকেও পুজো দেখতে এসে প্রাণ হারিয়েছেন অনেকে। বিহারের মুজফ্ফরপুর থেকে অভিষেক শ্রীবাস্তব ও তাঁর ছেলে অয়ন শ্রীবাস্তব আগরপাড়ায় তাঁদের আত্মীয়ের বাড়িতে এসেছিলেন জীবনের প্রথমবার কলকাতার দুর্গাপুজো উপভোগ করতে। কিন্তু শনিবার বিকেলে চোরবাগান সর্বজনীনে ঠাকুর দেখতে গিয়ে হুড়োহুড়ির বলি হন এই বাবা ও ছেলে। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই তাঁদের মৃত্যু হয় এবং আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তাঁদের এক আত্মীয়। পরিবারের এই আচমকা ট্র্যাজেডিতে শোকে পাথর হয়ে গেছেন স্বজনরা। চোরবাগানের এই একটিমাত্র বিপর্যয় একাধিক পরিবারের বছরের পর বছরের আনন্দ এবং স্বপ্নকে চিরতরে কেড়ে নিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *