ধর্মীয় জমায়েতে কীভাবে এড়াবেন চোরবাগানের মতো মর্মান্তিক দুর্ঘটনা? এনডিএমএ-র গাইডলাইন জানলে শিউরে উঠবেন!

কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো মণ্ডপে ভিড়ের চাপে অন্তত ১৯ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু এবং প্রায় ২৫ জনের আহত হওয়ার ঘটনা গোটা রাজ্যকে নাড়িয়ে দিয়েছে। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা পুজো মণ্ডপগুলিতে ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিয়ে ফের একশো শতাংশ সতর্কতার প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এমন অনভিপ্রেত ও ভয়াবহ বিপর্যয় কীভাবে এড়ানো সম্ভব, সে বিষয়ে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা কর্তৃপক্ষ (NDMA)-এর নির্দেশিকা ও পরামর্শ নতুন করে সামনে এসেছে।
ঠিক কী কারণে ঘটে এমন বিপর্যয়?
সাধারণভাবে এই ধরনের ঘটনাকে ‘পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনা’ বা স্ট্যাম্পেড বলা হলেও, বিশেষজ্ঞরা একে মূলত অতিরিক্ত ভিড়ের চাপে তৈরি হওয়া অবর্ণনীয় পরিস্থিতি বলে মনে করেন। কোনও নির্দিষ্ট স্থানে মানুষের ঘনত্ব যখন অতিরিক্ত মাত্রায় বেড়ে যায়, তখন মানুষের নিজের চলাফেরার ওপর আর নিয়ন্ত্রণ থাকে না। সেই মুহূর্তে সামান্য একটি ধাক্কা বা ছোট্ট দিক পরিবর্তনও বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা কর্তৃপক্ষের (এনডিএমএ) একটি গুরুত্বপূর্ণ রিপোর্টে জানানো হয়েছে যে, ভারত-সহ বিভিন্ন উন্নয়নশীল দেশে জনবহুল স্থান বা ধর্মীয় উৎসবের জমায়েতে এই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার পেছনে বেশ কিছু সাধারণ কিন্তু মারাত্মক ত্রুটি থাকে। যেমন:
-
দুর্বল ও অপরিকল্পিত অস্থায়ী কাঠামো বা প্যান্ডেল।
-
অপর্যাপ্ত ব্যারিকেড এবং কম আলোযুক্ত বা অন্ধকার সিঁড়ি।
-
সংকীর্ণ প্রবেশ ও প্রস্থানের (Entry and Exit) পথ।
-
প্রত্যাশার তুলনায় অতিরিক্ত মানুষের ভিড় এবং অপেক্ষার জায়গার চরম অভাব।
-
প্রবেশ ও বেরোনোর রাস্তা আলাদা না রাখা।
এনডিএমএ-র নির্দেশিকা অনুযায়ী বাঁচার উপায় কী?
ভবিষ্যতে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা এড়াতে আগাম পরিকল্পনা এবং কঠোর নিরাপত্তার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। এনডিএমএ-র গাইডলাইন অনুযায়ী কিছু সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি: ১. আগাম পরিকল্পনা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণ: উৎসব শুরুর আগেই বড় জমায়েত সামলানোর জন্য সুনির্দিষ্ট ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করতে হবে। ২. স্বতন্ত্র যাতায়াত পথ: মণ্ডপে ঢোকার এবং বেরোনোর রাস্তা সম্পূর্ণ আলাদা ও প্রশস্ত রাখতে হবে, যাতে কোথাও ওভারল্যাপিং বা মুখোমুখি চাপ তৈরি না হয়। ৩. প্রবেশ ও বারোয়ারি নিয়ন্ত্রণ: একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ মানুষকে মণ্ডপের ভেতরে ঢুকতে না দিয়ে নির্দিষ্ট বিরতিতে সীমিত সংখ্যায় প্রবেশের ব্যবস্থা করা। ৪. পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও নজরদারি: পর্যাপ্ত পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী মোতায়েন করার পাশাপাশি মাইকিং বা ঘোষণা করার ক্ষেত্রে চরম সতর্কতা অবলম্বন করা, যাতে দর্শনার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি বা আতঙ্ক না ছড়ায়।
চোরবাগানের এই মহাবিপর্যয় থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামী দিনে রাজ্যের প্রতিটি পুজো কমিটিতে নিরাপত্তা ও ভিড় ব্যবস্থাপনার ওপর কঠোর নজরদারি বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।