“ঘন জঙ্গল থেকে চোরদের আস্তানা”-বিখ্যাত ‘চোরবাগান’ নামের ইতিহাস জানেন কি?

মহাসপ্তমীর রাতে কলকাতার বুকে নেমে এল এক অভূতপূর্ব অন্ধকার। উৎসবের আনন্দে মেতে ওঠার বদলে এই রাতে এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের সাক্ষী থাকল তিলোত্তমা। চোরবাগান সর্বজনীন ক্লাবের মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন ১৯ জন পুজোপ্রেমী। মর্মান্তিক এই ঘটনায় মৃতদের মধ্যে রয়েছেন এক শিশু-সহ ১২ জন মহিলা, যা গোটা রাজ্যকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। এই ঘটনার পর থেকেই উৎসবের চিরায়ত মেজাজ নিমেষে বিষাদে রূপ নিয়েছে।

শহরের অন্যতম পুরনো ও জনপ্রিয় এই পুজো ঘিরে মানুষের মনে যেমন শোকের ছায়া নেমে এসেছে, তেমনই বহু মানুষ জানতে চাইছেন ঠিক কোথায় অবস্থিত এই চোরবাগান সর্বজনীন মণ্ডপ এবং এই এলাকার নামকরণের পেছনের ইতিহাসই বা কী?

চোরবাগান সর্বজনীনের সঠিক লোকেশন: উত্তর কলকাতার অত্যন্ত পরিচিত এই পুজো মণ্ডপে যাতায়াত করা তুলনামূলক সহজ।

  • মেট্রো রুট: মহাত্মা গান্ধী রোড (MG Road) কিংবা গিরিশ পার্ক মেট্রো স্টেশনে নেমে খুব সহজেই এই পুজো মণ্ডপে পৌঁছে যাওয়া যায়। এর মধ্যে মহাত্মা গান্ধী রোড মেট্রো স্টেশন থেকে চোরবাগান সর্বজনীনের দূরত্ব সবচেয়ে কম।

  • ল্যান্ডমার্ক: উত্তর কলকাতার ঐতিহাসিক ও বিখ্যাত ঠনঠনিয়া কালীবাড়ি থেকে এই মণ্ডপের দূরত্ব মাত্র ৫৫০ মিটার।

কেন এই এলাকার নাম ‘চোরবাগান’ হলো? নামটি নিয়ে কৌতুহল থাকা স্বাভাবিক। ইতিহাসবিদ ও স্থানীয় প্রবীণদের মতে, আজ থেকে প্রায় তিন-চারশো বছর আগের কলকাতায় এই সম্পূর্ণ এলাকাটি ছিল এক ঘন জঙ্গল, ঝোপঝাড় ও গাছপালায় ঘেরা নির্জন বাগান।

কথিত আছে, তৎকালীন সময়ে এই ঘন জঙ্গলটি ছিল একদল চোর ও ডাকাতদের গোপন আস্তানা। শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে চুরি বা ডাকাতি করা বহুমূল্য সামগ্রী তারা এনে এই বনের ভেতরে লুকিয়ে রাখত। ঘন জঙ্গল এবং দুর্গম পরিবেশের কারণে তৎকালীন কোতোয়ালি পুলিশ বা সাধারণ মানুষের পক্ষে সেখানে প্রবেশ করা প্রায় অসম্ভব ছিল। অপরাধীদের এই নিরাপদ আস্তানা বা ‘চোরদের বাগান’ হিসেবে পরিচিত হওয়ার সুবাদেই কালক্রমে লোকমুখে এই এলাকার নাম স্থায়ী হয়ে যায়— ‘চোরবাগান’। ইতিহাসের সেই চত্বরেই সপ্তমী রাতে ঘটে যাওয়া এই বিপর্যয় আজ বড়ো এক ক্ষত তৈরি করল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *