‘প্রতারণার পর্দা সরিয়ে জয়ী শিক্ষার্থীরাই!’ কাদের ইঙ্গিত করে বেঙ্গালুরুতে তোপ দাগলেন সিজেআই?

ন্যাশনাল ল স্কুল অব ইন্ডিয়া ইউনিভার্সিটি (NLSIU)-র সমাবর্তন অনুষ্ঠান ভণ্ডুল করার পিছনে কাজ করেছিল কিছু ‘বাহ্যিক শক্তি’। তবে সমস্ত চক্রান্ত ও বাধা অতিক্রম করে শেষ পর্যন্ত জয় হয়েছে শিক্ষার্থীদেরই। শনিবার বেঙ্গালুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুনর্নির্ধারিত ৩৪তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে ঠিক এভাবেই বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন ভারতের প্রধান বিচারপতি (CJI) সূর্য কান্ত।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য হিসেবে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি বলেন, “কিছু অপ্রীতিকর ও অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি, যা মূলত বাহ্যিক শক্তি দ্বারা চালিত হয়েছিল, তা একসময় বড় অনিশ্চয়তা তৈরি করেছিল। মনে হয়েছিল এই অনুষ্ঠান বুঝি আমরা যেভাবে চেয়েছিলাম সেভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে না।” কিন্তু কোনো অসৎ চক্রান্তের সামনে মাথা নত না করে শিক্ষার্থীরা যেভাবে নিরপেক্ষতাকে বেছে নিয়েছে, তার প্রশংসা করেন তিনি। সিজেআই যোগ করেন, “তোমরা প্রতারণার পর্দা সরিয়ে দিয়েছ এবং প্রমাণ করেছ যে একদল সৎ ও নিষ্ঠাবান মানুষের ইচ্ছাশক্তি অসৎ উপায়ে চলা চক্রান্তকারীদের সহজেই হারিয়ে দিতে পারে।” তবে তিনি ঠিক কোন ‘বাহ্যিক শক্তি’র দিকে ইঙ্গিত করেছেন, তা স্পষ্ট করেননি।

উল্লেখ্য, গত ১২ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে চলা এই সমাবর্তন অনুষ্ঠানটি গত ২৭ অগস্ট ‘অনিবার্য কারণবশত’ হঠাৎ বাতিল করা হয়। জানা গিয়েছিল, হায়দরাবাদের একটি বিতর্কিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিসিআই চেয়ারম্যান ও বিচারব্যবস্থার শীর্ষ ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতির বিরোধিতা করেছিল পড়ুয়াদের একাংশ। পরবর্তীতে এগজিকিউটিভ কাউন্সিলের বৈঠকে ১৭ অক্টোবর সমাবর্তনের নতুন দিন নির্ধারিত হয়।

এদিনের স্মারক বক্তৃতায় নবীন আইনজীবী ও আইনি পেশাদারদের উদ্দেশে স্বাধীন চিন্তা ও সততা বজায় রাখার বার্তা দেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। তিনি বলেন, “স্বতন্ত্র চিন্তাভাবনার ভিত্তিই হল নিরপেক্ষতা— বিচার করার আগে অপর পক্ষের কথা শোনা, ব্যক্তির অবস্থানকে আলাদা করে দেখা এবং অন্যের মর্যাদা ক্ষুণ্ন না করে ভিন্নমত প্রকাশ করা।” আইন কখনো স্থির নয়, বরং পেশাদারদের ন্যায় নীতি ও কর্মের মধ্য দিয়েই তা বিকশিত হয় বলেও মনে করিয়ে দেন তিনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *