সাধারণ পরিবারের ছেলে থেকে খবরের শিরোনামে! কে এই অভিজিৎ দীপকে? জানুন পরিচয়

এই মুহূর্তে জাতীয় রাজনীতির অলিন্দে সবচেয়ে চর্চিত নামগুলির একটি হলো অভিজিৎ দীপকে। ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা এই তরুণ নেতা বর্তমানে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা ‘এসআইআর’-এর বিরুদ্ধে জোরদার আন্দোলন ও মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি তুলে খবরের শিরোনামে রয়েছেন। এমনকি সম্প্রতি দিল্লি পুলিশের হাতে তাঁর গ্রেফতারির পর থেকেই সাধারণ মানুষের মনে কৌতূহল তুঙ্গে— কে এই অভিজিৎ দীপকে? কোন রাজনৈতিক পটভূমি থেকে উঠে এলেন তিনি? সিজেপি গঠনের আগে ঠিক কী করতেন এই তরুণ? আসুন, এক নজরে জেনে নেওয়া যাক তাঁর জীবন ও রাজনৈতিক উত্থানের অজানা অধ্যায়।

শিক্ষা ও প্রারম্ভিক জীবন: রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিজিৎ দীপকের এই লড়াইয়ের নেপথ্যে রয়েছে তাঁর সুদৃঢ় শিক্ষাগত যোগ্যতা। ১৯৯৬ সালে মহারাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া অভিজিৎ প্রাথমিক শিক্ষা সেরেছিলেন মারাঠি মাধ্যমের স্কুলে। দশম শ্রেণি পর্যন্ত সেখানেই পড়ার পর উচ্চমাধ্যমিকের জন্য তিনি ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলে ভর্তি হন।

সিজেপির অফিশিয়াল ওয়েবসাইট অনুযায়ী, দ্বাদশ শ্রেণিতে সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনা করে ৯২ শতাংশ নম্বর পেয়েছিলেন তিনি। পদার্থবিদ্যা, রসায়ন ও অঙ্কের বেস শক্ত করার পর ঔরঙ্গাবাদের সরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ (Government College of Engineering) থেকে কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে বিটেক সম্পন্ন করেন এবং ২০১৮ সালে গ্র্যাজুয়েট হন। কলেজ জীবনে তিনি বিভিন্ন বিতর্ক সভা ও ছাত্র সংসদ আন্দোলনে যথেষ্ট সক্রিয় ছিলেন। সেই সময়ে তিনি ‘টিয়ার-২ ইঞ্জিনিয়ার’ নামে একটি ব্লগও লিখতেন, যেখানে আইআইটি বা এনআইটির বাইরে থাকা সাধারণ ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়াদের নানা সমস্যা ও সংগ্রাম তুলে ধরতেন।

করমজীবন থেকে বোস্টন যাত্রা: গ্র্যাজুয়েশনের পর কর্পোরেট দুনিয়ায় পা রাখেন অভিজিৎ। পুণের দুটি ভিন্ন স্টার্টআপ সংস্থায় ব্যাক-এন্ড ডেভেলপার (Back-end Developer) হিসেবে প্রায় চার বছর কাজ করেন তিনি। এরপর উচ্চশিক্ষার টানে দেশ ছাড়েন। ২০২৩ সালে আমেরিকার নামী বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্রেডেরিক এস পার্ডি স্কুল অফ গ্লোবাল স্টাডিজে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। তাঁর পড়াশোনার মূল ফোকাস ছিল দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক অর্থনীতি।

রাজনীতিতে হাতেখড়ি ও ‘আপ’ সংযোগ: সিজেপি গঠনের আগে থেকেই রাজনীতির ময়দানে পরোক্ষভাবে সক্রিয় ছিলেন অভিজিৎ। ২০২০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত আম আদমি পার্টি (AAP)-এর সোশ্যাল মিডিয়া টিমে একজন ভলেন্টিয়ার বা স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। ২০২০ সালের দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে যে আকর্ষণীয় ও মিমভিত্তিক ডিজিটাল প্রচার চালানো হয়েছিল, তার নেপথ্যেও নাকি তাঁর বড় ভূমিকা ছিল।

কীভাবে এল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)? আম আদমি পার্টির সঙ্গে কাজ করার সেই বহুমুখী অভিজ্ঞতাকেই পরে নিজের মতো করে কাজে লাগান অভিজিৎ। দেশের এক বিচারপতির মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বেকার যুবকদের বঞ্চনার প্রসঙ্গ সামনে আসতেই তিনি ২০২৬ সালের মে মাসে সম্পূর্ণ নতুন ধাঁচে গড়ে তোলেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)।

খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়া ও তরুণ প্রজন্মের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এই দল। পরবর্তীতে নেট (NEET) প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের বিরুদ্ধে যন্তরমন্তরে সিজেপির বিশাল আন্দোলন তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করেছিল। আর সেই আন্দোলনের মাধ্যমেই জাতীয় রাজনীতিতে বড়সড় পরিচিতি পান অভিজিৎ দীপকে। বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে লড়াই এবং পুলিশি গ্রেফতারির জেরে তিনি এখন দেশের রাজনৈতিক মহলের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *