অস্থি বিসর্জন শৌচাগারের নোংরা জলে! এই আইএএস অফিসারের বিরুদ্ধে হঠাৎ কেন এত চরম ক্ষোভ?

ভোটার তালিকা পুনর্নিরীক্ষণ বা ‘স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন’ (SIR)-এ ব্যাপক কারচুপি ও অনিয়মের অভিযোগে বর্তমানে দেশজুড়ে তোলপাড় চলছে। তার মাঝেই এবার কেরলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের প্রতীকী শেষকৃত্যের আয়োজনকে কেন্দ্র করে চরম চাঞ্চল্য তৈরি হলো। ক্ষোভ প্রকাশ করতে সিইসি-র ছবিতে মালা পরিয়ে প্রতীকী চিতায় আগুন লাগানোর পর, তাঁর ‘অস্থি বিসর্জন’ করা হলো শৌচাগারের নোংরা নর্দমায়! বিচিত্র ও মর্মান্তিক এই প্রতিবাদের ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই তা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে কেরলের পলক্কড় স্টেডিয়াম বাস স্ট্যান্ড এলাকার কাছে। অভিযোগ, স্থানীয় ব্লক কংগ্রেস কমিটির কর্মীরাই মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে এই নজিরবিহীন প্রতিবাদের আয়োজন করেন।
কী দেখা গেছে সেই ভাইরাল ভিডিওতে?
সামনে আসা ছবি ও ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, জনবহুল রাস্তার উপর কাঠ দিয়ে একটি প্রতীকী চিতা বানানো হয়েছে। তার ঠিক উপরেই ঝোলানো রয়েছে মালা পরানো জ্ঞানেশ কুমারের ছবি। চিতা জ্বালানোর পর তার চারপাশে ঘিরে দাঁড়িয়ে অনেক বিক্ষোভকারীকে চিৎকার করতে এবং বিলাপ করার নাটক করতেও দেখা যায়।
এরপরের দৃশ্যটি আরও মর্মান্তিক। অন্য একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, শৌচাগারের বাইরে জড়ো হয়ে সাদা পোশাক পরা কয়েকজন বিক্ষোভকারী হাতে একটি মাটির কলসি নিয়ে উপস্থিত হয়েছেন। সেখানে সিইসি-র প্রতীকী ‘অস্থি বিসর্জন’-এর নাম করে শৌচাগারের নোংরা নর্দমার পাইপ দিয়ে বয়ে যাওয়া জলে সেই ছাই ঢেলে দেওয়া হয়।
সারা দেশে ছড়াচ্ছে আন্দোলনের আগুন
ভোটার তালিকা সংক্রান্ত ইস্যু নিয়ে নির্বাচন কমিশন ও জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে এমন উগ্র প্রতিবাদ এই প্রথম নয়:
-
কর্নাটকে প্রতিবাদ: গত সেপ্টেম্বর মাসের শেষের দিকে কর্নাটকের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের দফতরে পৌঁছে প্রতীকী ‘গণতন্ত্রের শেষকৃত্য’ পালন করা হয়।
-
বারাণসী আদালতে বিক্ষোভ: সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশের বারাণসী আদালত চত্বরে আইনজীবীরা বাঁশের দোলায় প্রতীকী দেহ বানিয়ে শ্মশানযাত্রার মতো করে চক্কর কাটেন এবং ‘জ্ঞানেশ কুমার, গণতন্ত্রের হত্যাকারী’ বলে স্লোগান দেন।
যদিও কেরলের এই ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত শীর্ষ কংগ্রেস নেতৃত্বের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। তবে একজন সর্বোচ্চ নির্বাচন আধিকারিকের বিরুদ্ধে এমন চরম ও অপমানজনক পদক্ষেপের ভিডিও নেটিজেনদের মধ্যে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।