‘প্রশ্ন তোলা কি নৈরাজ্য?’ ইন্টারনেট বন্ধ ও পুলিশের সক্রিয়তা ঘিরে কেন্দ্রকে চাঁচাছোলা আক্রমণ দীপকের

রাজধানীতে সিজেপি-র (Cockroach Janta Party) প্রস্তাবিত ‘তেরঙা যাত্রা’ ঘিরে পুলিশের তুমুল সক্রিয়তা ও বিধিনিষেধ আরোপের তীব্র সমালোচনা করলেন দলের প্রতিষ্ঠাতা-নেতা অভিজিৎ দীপকে। সামাজিক মাধ্যম ‘X’-এ (সাবেক টুইটার) একটি দীর্ঘ বার্তার মাধ্যমে সরকার ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে একহাত নিয়েছেন তিনি। স্পষ্ট জানান, সাধারণ মানুষের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে অর্থনৈতিক ক্ষতি হয় না; বরং সরকার যখন পুরো শহর স্তব্ধ করে দেয়, ইন্টারনেট বন্ধ করে এবং নাগরিকেদের চলাচলে নিষেধাজ্ঞা চাপায়, তখনই প্রকৃত ক্ষতি হয়।

প্রতিবাদের পরিবেশ ও হিংসার জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে দীপকে বলেন, “প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সিজেপি মহাত্মা গান্ধীর শান্তি ও অহিংসার পথ অনুসরণ করে আসছে। মুম্বই, পুনে, জয়পুর, লখনউ, বেঙ্গালুরু এবং নাগপুরে আমাদের আন্দোলন শতভাগ শান্তিপূর্ণ ছিল।” এমনকি জয়পুরে তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে শারীরিকভাবে নিগ্রহ করা হলেও দলের নীতি মেনে তিনি হিংসার পথ বেছে নেননি বলে উল্লেখ করেন।

সংবিধানের প্রণেতা ড. বি আর আম্বেদকরের মূল্যবোধের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সিজেপি প্রধান যোগ করেন, “আমাদের মূল শক্তি সংবিধানের প্রতি আস্থা। কোনো উসকানিতেই আমরা সেই পথ থেকে বিচ্যুত হব না।”

সরকারের বিরুদ্ধে দ্বিচারিতার অভিযোগ এনে অভিজিৎ দীপকে আরও বলেন, “চুপ থাকতে অস্বীকার করলেই আমাদের অনার্কিস্ট বা নৈরাজ্যবাদী হিসেবে দাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। কিন্তু সরকারের কাছে জবাবদিহি চাওয়া, অন্যায়ের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামা কিংবা জনপ্রতিনিধিদের প্রশ্ন করা নৈরাজ্য নয়—এগুলিই গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি। আজ যারা ক্ষমতায় রয়েছে, বিরোধী আসনে থাকার সময় তারাও বছরের পর বছর রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করেছে। সেদিন যদি আজকের মতো দমনপীড়ন চালানো হতো, তবে হয়তো অনেকেই আজকের এই ক্ষমতাবান অবস্থানে পৌঁছাতে পারতেন না।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *