হাইকোর্টের কড়া নির্দেশ সত্ত্বেও পিছোবে কি পঞ্চায়েত ভোট? ওপি রাজবরের বড় মন্তব্যে উত্তরপ্রদেশে হুলুস্থুল!

ইলাহাবাদ হাইকোর্টের কড়া নির্দেশ অনুযায়ী আগামী তিন মাসের মধ্যে উত্তরপ্রদেশে ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত নির্বাচন সম্পন্ন করার কথা। কিন্তু আদালতের এই সময়সীমা সামনে আসার পরেও রাজ্য রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে তীব্র ধোঁয়াশা। সূত্র মারফৎ খবর মিলছে যে, হাইকোর্টের এই আদেশের বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হতে পারে যোগী আদিত্যনাথ সরকার। অন্যথায়, পঞ্চায়েত নির্বাচন ঘিরে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা।

আমরা প্রস্তুত, বল এখন কমিশনের কোর্টে: ওপি রাজভর
এই পরিস্থিতিতে মুখ খুলেছেন উত্তরপ্রদেশের পঞ্চায়েত রাজ মন্ত্রী তথা সুপাসপা (SBSPA) প্রধান ওম প্রকাশ রাজভর। তাঁর দাবি, রাজ্য সরকার নির্বাচন করাতে পুরোপুরি প্রস্তুত। সমস্ত জেলা সদর দফতরে ইতিমধ্যেই ব্যালট পেপার বা মতপত্র পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত ভোটার তালিকাও তৈরি করে ফেলেছে।

তবে দেরি হওয়ার কারণ হিসেবে তিনি দায় চাপিয়েছেন হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত বিশেষ অনগ্রসর শ্রেণি বা ওবিসি (OBC) কমিশনের ওপর। রাজভরের বক্তব্য, “আদালতের নির্দেশেই কমিশন গঠিত হয়েছে, কিন্তু তাদের রিপোর্ট এখনও জমা পড়েনি। কমিশন যত দ্রুত রিপোর্ট দেবে, সরকার তত দ্রুত নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে।”

হাইকোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ কী ছিল?
এর আগে ইলাহাবাদ হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল যে, অনগ্রসর কমিশনের তদন্ত বা রিপোর্ট মুলতুবি থাকার অজুহাতে পঞ্চায়েত নির্বাচন কোনোভাবেই পিছিয়ে দেওয়া যাবে না। বর্তমান প্রচলিত সংরক্ষণ ব্যবস্থার মাধ্যমেই নির্বাচন প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। কিন্তু আদালতের এই কড়া নির্দেশ সত্ত্বেও ওবিসি সংরক্ষণ প্রক্রিয়া শেষ না করে নির্বাচন না করার পুরনো যুক্তিতেই অনড় রয়েছে সরকার।

জানা গেছে, ওবিসি সংরক্ষণ সুনিশ্চিত করতে মে ২০২৬ সালে এই বিশেষ কমিশন গঠন করা হয়েছিল। এখনও পর্যন্ত কমিশন রাজ্যের ৪৬টি জেলা সফর করেছে। সমস্ত জেলার সফর শেষ হওয়ার পরই ওবিসি সংরক্ষিত আসনগুলির তালিকা প্রকাশ করে তাতে আপত্তি আহ্বান করা হবে এবং তার সুরাহার পরই চূড়ান্ত তালিকা আসবে।

বিরোধীদের নিশানায় যোগী সরকার
অন্যদিকে, সরকারের এই গড়িমসি নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে বিরোধীরা। সমাজবাদী পার্টি (SP) এবং কংগ্রেস হাইকোর্টের রায়কে স্বাগত জানিয়ে সরাসরি অভিযোগ তুলেছে যে, আসন্ন নির্বাচনে সম্ভাব্য পরাজয়ের ভয়েই বিজেপি সরকার বিভিন্ন ছুতোয় পঞ্চায়েত নির্বাচন এড়িয়ে যেতে চাইছে। এখন দেখার বিষয়, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে রাজ্য সরকার নির্বাচন পরিচালনা করে, নাকি আইনি লড়াইয়ের জন্য দেশের শীর্ষ আদালতের পথ বেছে নেয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *