নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির বিরুদ্ধে চরম চক্রান্তের অভিযোগ! দলবদলের ঝড়ে উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে বড় ধাক্কা অখিলেশের?

উত্তর প্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক ময়দানে উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল সমাজবাদী পার্টি (এসপি) অন্যান্য রাজনৈতিক দল থেকে হেভিওয়েট নেতাদের নিজেদের দলে অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া অত্যন্ত আক্রমণাত্মকভাবে চালিয়ে যাচ্ছে। লখনউস্থিত দলীয় কার্যালয়ে সমাজবাদী পার্টির জাতীয় সভাপতি তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদবের সরাসরি উপস্থিতিতে বিভিন্ন বিরোধী শিবির যেমন—বিজেপি, রাষ্ট্রীয় লোক দল (আরএলডি), আজাদ সমাজ পার্টি এবং নিষাদ পার্টির বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা ও জনপ্রতিনিধি ঘাসফুল শিবির ছেড়ে সমাজবাদী পার্টিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেছেন। এই মেগা দলবদলের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অখিলেশ যাদব অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী সুরে দাবি করেছেন যে, এটি তো সবেমাত্র শুরু, আগামী দিনে আরও বিপুল সংখ্যক বিধায়ক ও হেভিওয়েট নেতা তাঁদের দলে যোগ দিতে চলেছেন।
এদিন এসপি-র হাত ধরে যাঁরা দলবদল করলেন, তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নাম হলেন বিজেপির রাজপাল সাইনি এবং শামলির বিশিষ্ট বাসিন্দা তথা বিজেপির রাজ্য কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হরবীর মালিক। পাশাপাশি, আজাদ সমাজ পার্টি ত্যাগ করে এসপি-তে নাম লিখিয়েছেন পবন সাইনি, নিষাদ পার্টির শুভেন্দ্র আচার্য এবং রাষ্ট্রীয় লোক দলের সঞ্জীব প্রধান, রাজেন্দ্র মালিক, বিজেন্দ্র মালিক, শুভম মালিক ও রাজেন্দ্র সিং। এছাড়াও বিভিন্ন দলের একাধিক প্রাক্তন প্রার্থীও এদিন সমাজবাদী পার্টির পতাকা হাতে তুলে নিয়েছেন। অখিলেশ যাদব দাবি করেন যে, অন্যান্য রাজনৈতিক দলের অনেক নেতাই বর্তমানে এসপি নেতৃত্বের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এবং সঠিক সময়ের অপেক্ষায় রয়েছেন। তাঁর মতে, রাজ্যের বর্তমান শাসক দল বিজেপির চরম জনরোষ ও জনসমর্থন হারানোর ভয়েই বিভিন্ন দলের নেতারা সমাজবাদী পার্টিকে নিরাপদ রাজনৈতিক ঠিকানা হিসেবে বেছে নিচ্ছেন।
দলববদলের এই রাজনীতির পাশাপাশি নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন অখিলেশ যাদব। ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন বা এসএসআর (SSR) প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে সরাসরি নিশানা করে তিনি গুরুতর অভিযোগ তোলেন। অখিলেশ অত্যন্ত ব্যঙ্গাত্মক সুরে এসএসআর (SSR)-কে উল্টো করে পড়ে এর সঙ্গে আরএসএস (RSS)-এর যোগসূত্র টানেন এবং তাঁর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বর্ণনা করতে অত্যন্ত কড়া ভাষায় “অনিবন্ধিত”, “ভূগর্ভস্থ” এবং “বিচ্ছিন্নতাবাদী”-র মতো তীব্র শব্দ প্রয়োগ করেন। তাঁর সরাসরি অভিযোগ, বিজেপির পক্ষে সরাসরি রাজনৈতিক ময়দানে লড়াই করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে বলেই তারা নির্বাচন কমিশনকে সামনে রেখে এক গভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। ভোটার তালিকা সংশোধনের এই আড়ালে নির্বাচনী সমীকরণকে সম্পূর্ণ নিজেদের অনুকূলে প্রভাবিত করার ঘৃণ্য চক্রান্ত চলছে বলে দাবি করেন তিনি।
ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার সময়সীমা ও বারবার পরিবর্তন নিয়ে কঠোর আপত্তি জানিয়েছেন এসপি সুপ্রিমো। তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, বারবার ভোটার তালিকা সংশোধন করার কোনো যৌক্তিকতা নেই; নির্বাচন কমিশনের উচিত স্বচ্ছভাবে এককালীন এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা। প্রচার ও প্রাথমিক সংশোধন পর্ব ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে যাওয়ার পরও বারবার তালিকা সংশোধনের ফলে সাধারণ ভোটাররা মারাত্মক হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। শুধু তাই নয়, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে অখিলেশ চাঞ্চল্যকর দাবি করেন যে, তাঁদের দল এমন একটি নির্দিষ্ট ঘটনা খুঁজে পেয়েছে যেখানে একজন তরুণ ভোটার জীবনে প্রথমবার ভোট দিতে গিয়ে দেখতে পান যে তাঁর একার নামেই ভোটার তালিকায় দশটি আলাদা ভোট নথিভুক্ত করা হয়েছে! এটিকে নির্বাচন কমিশনের কোনো সাধারণ ভুল বা টেকনিক্যাল ত্রুটি বলতে নারাজ অখিলেশ। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, সমাজবাদী পার্টি এসআইআর বা এসএসআর প্রক্রিয়ার নিয়মতান্ত্রিক বিরোধিতায় নেই, কিন্তু এই প্রক্রিয়ার আড়ালে যে সুপরিকল্পিত জালিয়াতি ও ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে এসপি শেষ দেখে ছাড়বে।