মহাষষ্ঠীতেই সোনার দামে বড় ধাক্কা! পুজোর কেনাকাটার মাঝে হঠাৎ বদলে গেল রেট?

শারদোৎসবের আনন্দ ও উদ্দীপনায় মেতে উঠেছে গোটা পশ্চিমবঙ্গ। প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে মানুষের ঢল, রঙিন আলোর রোশনাই আর নতুন পোশাকের পাশাপাশি উৎসবের কেনাকাটায় অন্যতম প্রধান আকর্ষণ সোনার গয়না। তবে মহাষষ্ঠীর এই আনন্দের আবহেই মধ্যবিত্ত ও গয়না ক্রেতাদের জন্য কিছুটা চিন্তার খবর সামনে এল। উৎসবের মরসুমে সোনা ও রুপো কিনতে গেলে পকেটে টান পড়তে পারে। স্বর্ণ শিল্প বাঁচাও কমিটির প্রকাশিত দর অনুযায়ী, শুক্রবার ১৬ অক্টোবর সোনার পাশাপাশি রুপোর দামেও উল্লেখযোগ্য ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। আগের দিনের তুলনায় ২২ ক্যারেট এবং ২৪ ক্যারেটের কাছাকাছি বিশুদ্ধতার সোনার দর একধাক্কায় অনেকটাই বেড়েছে।

স্বর্ণ শিল্প বাঁচাও কমিটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৬ অক্টোবর সকাল ১০টা নাগাদ ৯৯৫ বিশুদ্ধতার ফাইন গোল্ডের দাম প্রতি গ্রামে দাঁড়িয়েছে ১৪,৫৯৪ টাকা। আগের দিন অর্থাৎ ১৫ অক্টোবর এই দর ছিল ১৪,৫৪২ টাকা। ফলে মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে প্রতি গ্রাম ফাইন গোল্ডের দাম বেড়ে গিয়েছে ৫২ টাকা। অন্যদিকে, গয়না তৈরির জন্য বহুল ব্যবহৃত ২২ ক্যারেট বা ৯১৬ বিশুদ্ধতার সোনার বিক্রয়মূল্য ১৬ অক্টোবর প্রতি গ্রামে দাঁড়িয়েছে ১৩,৮৬৫ টাকা, যা আগের দিন ছিল ১৩,৮১৫ টাকা। অর্থাৎ একদিনে ২২ ক্যারেট সোনার প্রতি গ্রামে দাম বেড়েছে ৫০ টাকা। একই সঙ্গে এই ক্যাটাগরির সোনার নতুন ক্রয়মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রতি গ্রামে ১৩,২৮০ টাকা।

শুধু ২২ ক্যারেট নয়, ১৮ ক্যারেট অর্থাৎ ৭৫০ বিশুদ্ধতার সোনার দামেও একই ধরনের বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। ১৬ অক্টোবর প্রতি গ্রাম ১৮ ক্যারেট সোনার নতুন দর নির্ধারিত হয়েছে ১১,৩৮৫ টাকা, যা ১৫ অক্টোবরের ১১,৩৪০ টাকার তুলনায় ৪৫ টাকা বেশি। সোনার পাশাপাশি রুপোর বাজারেও বড় পরিবর্তন এসেছে। স্বর্ণ শিল্প বাঁচাও কমিটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৬ অক্টোবর ৯৯৯ বিশুদ্ধতার এক কেজি রুপোর বারের পাইকারি দর পৌঁছেছে ২,১৪,০৭৭ টাকায়। ১৫ অক্টোবর এই দাম ছিল ২,১০,৩১০ টাকা। ফলে মাত্র একদিনের ব্যবধানে কেজিতে রুপোর দাম বেড়েছে প্রায় ৩,৭৬৭ টাকা, যা উৎসবের বাজারে বড় চমক।

উৎসবের মরসুমে গয়না কেনার পরিকল্পনা থাকলে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে মাথায় রাখা প্রয়োজন। প্রথমত, স্বর্ণ শিল্প বাঁচাও কমিটির প্রকাশিত এই দর সম্পূর্ণ সূচকভিত্তিক এবং রেফারেন্স দর হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এই মূল্যের সঙ্গে ৩ শতাংশ পণ্য ও পরিষেবা কর বা জিএসটি যুক্ত করা থাকে না। এ ছাড়া যেকোনো জুয়েলারি শপ থেকে গয়না কেনার ক্ষেত্রে মেকিং চার্জ বা মজুরি, আধুনিক নকশার খরচ এবং অন্যান্য প্রযোজ্য সরকারি ট্যাক্স যুক্ত হয়ে চূড়ান্ত খুচরা বিক্রয়মূল্য অনেকটাই বৃদ্ধি পায়। তাই পুজোর বাজেটে সোনা বা রুপো যুক্ত করার আগে দর যাচাই করে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *