SRFTI-তে চরম তাণ্ডব! উপাচার্যকে ঘিরে ধরে মারধর ও দফতরে ভাঙচুর, কড়া পদক্ষেপে বহিষ্কৃত ৬ পড়ুয়া

দেশের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ চলচ্চিত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট বা এসআরএফটিআই-এর (SRFTI) অন্দরে ঘটে গেল এক অত্যন্ত নজিরবিহীন ও লজ্জাজনক ঘটনা। প্রতিষ্ঠানের উপাচার্যকে শারীরিকভাবে হেনস্থা করা এবং তাঁর অফিসকক্ষে ব্যাপক ভাঙচুর চালানোর অভূতপূর্ব অভিযোগে মোট ছয় জন ছাত্রের বিরুদ্ধে চরম কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করল ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষ। ডিন কাউন্সিলের সুনির্দিষ্ট সুপারিশের ভিত্তিতেই এই কঠোর শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে বলে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।
বহিষ্কৃত হওয়া অভিযুক্ত পড়ুয়াদের তালিকায় যে নামগুলি উঠে এসেছে, তারা হলেন—শুভম ওয়ায়দাণ্ডে (Shubham Waydande), অ্যারন পি জয় (Aaron P Joy), আপ্পু সোমন (Appu Soman), অভিলাশ বি নায়ার (Abhilash B Nair), নাচিকেত শশীকান্ত পাওয়ার (Nachiket Shashikant Pawar) এবং ধিবাহার এম (Dhivahar M)। ইনস্টিটিউট সূত্রে প্রাপ্ত খবরে জানা গিয়েছে, এসআরএফটিআই-এর বর্তমান উপাচার্য সন্তোষ আজমেরার ওপর সরাসরি শারীরিক নিগ্রহের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে প্রধান অভিযুক্ত শুভম ওয়ায়দাণ্ডের বিরুদ্ধে। পাশাপাশি, বাকি পাঁচ জন পড়ুয়ার বিরুদ্ধে সুপরিকল্পিতভাবে উপাচার্যের দপ্তরে ঢুকে আসবাবপত্র ও সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর করার অভিযোগ আনা হয়েছে। এই সমস্ত গুরুতর অভিযোগ খতিয়ে দেখার পরই ডিন কাউন্সিলের উচ্চপর্যায়ের কমিটি ওই ছয় পড়ুয়াকে অবিলম্বে প্রতিষ্ঠান থেকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেয়।
পরিস্থিতি কতটা গুরুতর আকার ধারণ করেছিল, তার বিবরণ মিলেছে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রাতিষ্ঠানিক বিবৃতিতে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত বুধবার গভীর রাতে এসআরএফটিআই চত্বরে এক তাণ্ডবলীলা চালানো হয়। কয়েকজন বিক্ষুব্ধ পড়ুয়ার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্টভাবে শৃঙ্খলাভঙ্গ, ক্যাম্পাসের দেওয়ালে আপত্তিকর ও অবমাননাকর গ্রাফিতি আঁকা এবং উপাচার্যের কার্যালয়ের নিরাপত্তারক্ষীদের ওপর চড়াও হয়ে হেনস্থা করার মতো অভিযোগ তোলা হয়েছে। ঘটনার আকস্মিকতায় হতবাক হয়ে পড়ে পুরো ক্যাম্পাস।
অভিযোগ রয়েছে, বুধবার রাতের ওই হাঙ্গামার সময় উপাচার্যের দপ্তরের কাচের জানালা লক্ষ্য করে উপর্যুপরি ইট ছোড়া হয়। শুধু তাই নয়, চরম ঔদ্ধত্য দেখিয়ে অফিসের ভেতরে জল ও এয়ার কন্ডিশনার বা এসি-র সমস্ত সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। পরদিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার সকালে পরিষ্কার আলো ফোটার পর দপ্তরের চারপাশের চত্বরে কাচের টুকরো, ইটের ফলা এবং ভাঙা আসবাবপত্র বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এই ধরনের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিভাগের প্রধান ও শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। তাঁদের দাবি, গভীর রাতে উপাচার্যকে জোরপূর্বক ঘিরে ধরে অবমাননাকর স্লোগান দেওয়া হয় এবং এক পর্যায়ে হাতাহাতি ও শারীরিক নিগ্রহের ঘটনা ঘটে।
এই ঘটনার পর বৃহস্পতিবারই প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কঠোর ভাষায় একটি বিবৃতি জারি করা হয়। সেখানে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয় যে, ক্যাম্পাসের শৃঙ্খলা এবং প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা বজায় রাখতে এই ধরনের উশৃঙ্খল আচরণ কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। প্রাথমিক পর্যায়ে শোকজ করার পর সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এই কঠোর বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঘটনার জেরে গোটা এসআরএফটিআই চত্বরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এবং শিক্ষামহলে শুরু হয়েছে ব্যাপক তোলপাড়।