পুজোর মুখে বিরাট ধামাকা! গৃহপ্রবেশের আনন্দ মুহূর্তে উধাও, ঘর থেকে উদ্ধার নগদ ২৪ লক্ষ টাকা!

উৎসবের এই আনন্দঘন আবহ এবং পুজোর ঠিক প্রাক্কালেই পশ্চিমবঙ্গ থেকে এক চাঞ্চল্যকর খবর সামনে এল। শারদোৎসবের আনন্দ যখন গোটা রাজ্যজুড়ে তুঙ্গে, ঠিক সেই সময়ই গোপন সূত্রে প্রাপ্ত খবরের ভিত্তিতে এক ঝটিকা অভিযানে নেমে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ একেবারে কপালে উঠেছে। রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টিম এবং বিএসএফের যৌথ হানায় জলপাইগুড়ি শহরের একেবারে قلب বা প্রাণকেন্দ্র থেকে উদ্ধার হয়েছে নগদ লক্ষ লক্ষ টাকা এবং বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ মাদক। এই লোমহর্ষক ঘটনার জেরে উৎসবের দিনেও সমগ্র জলপাইগুড়ি শহরজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে জলপাইগুড়ি পৌরসভার অন্তর্গত ১০ নম্বর ওয়ার্ডের শান্ত ও পরিচিত এলাকা আশ্রমপাড়া অঞ্চলে। বিগত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে রামকৃষ্ণ মিশন সংলগ্ন একটি অভিজাত এলাকায় এই রুদ্ধশ্বাস অভিযান পরিচালিত হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত এক কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ীর বাড়িতে সেই দিনেই ঘটা করে একটি নতুন গৃহপ্রবেশের অনুষ্ঠান চলছিল। সারাদিন ধরে আত্মীয়-স্বজন ও অতিথিদের গমগমে সেই বাড়িতে যে এমন এক অপরাধ জগতের গোপন কারবার চলছে, তা ঘুণাক্ষরেও টের পাননি প্রতিবেশীরা। পুলিশের কাছে গোপন সূত্রে খবর পৌঁছতেই আর কালক্ষেপ করা হয়নি।

কোতোয়ালি থানার চৌকস পুলিশ বাহিনী এবং বিএসএফের জওয়ানরা যৌথভাবে দ্রুত পুরো বাড়িটি এবং তার আশপাশের এলাকা পুরোপুরি ঘিরে ফেলে। নিখুঁত ছক কষে শুরু হয় অপারেশন। যৌথ বাহিনীর সাথে ঘটনাস্থলে সশরীরে উপস্থিত হন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট। প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের উপস্থিতিতে এবং প্রশিক্ষিত স্নিফার ডগকে কাজে লাগিয়ে ওই বাড়িতে চিরুনি তল্লাশি শুরু হয়। বিএসএফের দক্ষ স্নিফার ডগ নিখুঁতভাবে গন্ধ শুঁকে বাড়ির গোপন কোণ থেকে উদ্ধার করে বিপুল পরিমাণ মাদক।

এরপর তল্লাশি অভিযান আরও গভীরে নিয়ে যাওয়া হলে ঘরের বিভিন্ন গোপন জায়গা থেকে একে একে বেরিয়ে আসে নগদ টাকার বান্ডিল। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তল্লাশি চালিয়ে মোট ২৪ লক্ষ টাকা নগদ উদ্ধার করা হয়েছে। এর পাশাপাশি উদ্ধার হয়েছে প্রায় ২২ কিলো ৮০০ গ্রাম ওজনের অত্যন্ত ক্ষতিকারক গাঁজা। এই বিশাল অঙ্কের নগদ টাকা এবং মাদকের অবৈধ কারবারের মূল হোতা তথা ওই বাড়ির মালিক বাপ্পাদিত্য সিং (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে রাতেই হাতেনাতে গ্রেফতার করে পুলিশ।

জলপাইগুড়ির পুলিশ সুপার সুজাতা কুমারী বিনাপানি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই সফল যৌথ অভিযানের বিশদ বিবরণ তুলে ধরেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ধৃত মাদক ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে এই কারবারের সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং উৎসবের মরশুমকে টার্গেট করে সে বড় কোনো অপরাধমূলক ছক কষছিল। গোপন সূত্রে খবর পেয়েই যৌথ বাহিনী দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। আজই ধৃতকে স্থানীয় আদালতে তোলা হবে এবং পুলিশি হেফাজতে নিয়ে এই চক্রের অন্য পাণ্ডাদের নাম জানতে জেরা শুরু করা হবে। উল্লেখ্য, ঠিক এর আগের সপ্তাহেও জলপাইগুড়ি পুলিশ লাইন সংলগ্ন এলাকায় আরেকটি সফল অভিযান চালিয়ে পুলিশ ১০ লক্ষ টাকা এবং মাদকসহ দুই কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ীকে পাকড়াও করেছিল। একের পর এক এমন ঘটনায় জলপাইগুড়ি জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং অপরাধ দমন শাখার তৎপরতা আবারও জোরদার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *