দশেরায় রাবণের পাশে আরশোলাও পোড়ানো হবে, রামলীলা ঘিরে চরম রাজনৈতিক তরজা

একদিকে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা ‘এসআইআর’-এর অনিয়মের অভিযোগে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ চেয়ে উত্তাল রাজধানীর রাজপথ। সিজেপি (ককরোচ জনতা পার্টি)-এর আন্দোলন আর তাতে পুলিশের কড়া নিরাপত্তায় যখন পরিস্থিতি উত্তপ্ত, ঠিক তখনই অন্য এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় সরগরম দিল্লি। শহরের এক প্রান্তে দশেরার উৎসবে রাবণ, কুম্ভকর্ণ ও মেঘনাদের পাশাপাশি পোড়ানো হবে ৩০ ফুটের একটি বিশাল আরশোলার কুশপুতুল! আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এখন রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
বিতর্কের মূলে কী? দিল্লির পিতমপুরায় প্রতিবছর জমজমাট রামলীলার আয়োজন করে ‘শ্রী কেশব রামলীলা কমিটি’। এ বছর তাদের উদযাপনে এসেছে এক অভিনব ও বিতর্কিত মোড়। আয়োজকদের দাবি, নোংরা ও অপরিচ্ছন্নতার প্রতীক হলো আরশোলা। তাই ‘স্বচ্ছ ভারত অভিযান’ ও ‘স্বচ্ছ দিল্লি অভিযান’-এর বার্তা দিতেই রাবণের সেনাবাহিনীর অসুরদের সঙ্গে ৩০ ফুটের একটি আরশোলার কুশপুতুল পোড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে আয়োজকরা যতই পরিচ্ছন্নতার বার্তা দেওয়ার কথা বলুন না কেন, রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের দাবি অন্য কথা। তাঁদের মতে, সম্প্রতি সিজেপির লাগাতার প্রতিবাদ ও রাজনৈতিক কর্মসূচির আবহেই প্রতীকীভাবে এই আরশোলা পুড়িয়ে আদতে সেই রাজনৈতিক দলকেই নিশানা করা হয়েছে।
যদিও এই সমস্ত রাজনৈতিক জল্পনা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তত্ত্ব উড়িয়ে দিয়েছেন রামলীলা কমিটির সভাপতি তথা বিজেপি বিধায়ক অশোক গোয়েল। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক যোগ নেই। তাঁর দাবি, আরশোলার কুশপুতুল পোড়ানোর মধ্য দিয়ে কেবল অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটিয়ে শুভ শক্তির জয়ের বার্তাটিই তুলে ধরা হচ্ছে।
উত্তাল সিজেপি ও দিল্লির নিরাপত্তা ব্যবস্থা: অন্যদিকে, নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগে বাধ্য করার পর, এবার ভোটার তালিকা সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সোচ্চার হয়েছে সিজেপি। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে আজ, ১৬ অক্টোবর দিল্লির কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে জাতীয় পতাকা হাতে জমায়েতের ডাক দিয়েছেন। ইতিমধ্যেই এই সংগঠনের দুই শীর্ষ নেতা তিহাড় জেলে বন্দি থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
এই রাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহু গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কনট প্লেস ও যন্তর মন্তর চত্বরে আধাসামরিক বাহিনীর একাধিক কোম্পানি মোতায়েন করা হয়েছে এবং সেন্ট্রাল পার্ক সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সিজেপির প্রতিবাদ কর্মসূচি বন্ধ করার আবেদন দিল্লি হাইকোর্ট খারিজ করে দেওয়ার পর, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সবরকম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে দিল্লি পুলিশ।