মালদায় নাবালিকা ধর্ষণকাণ্ডে এল ঐতিহাসিক রায়! পকসো আদালতের রায়ে দোষীর ২০ বছরের জেলের সাজা শুনে চমকে উঠবেন!

প্রায় তিন বছর দীর্ঘ আইনি লড়াই ও টানাপোড়েনের পর অবশেষে চরম সুবিচার পেল প্রতিবেশীর নৃশংস যৌন নির্যাতনের শিকার এক নাবালিকা। দীর্ঘ সময় ধরে চলা বিচার প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার মালদা জেলা পকসো আদালতের বিচারক অভিযুক্ত ওই পাড়াতুতো প্রতিবেশীকে কুড়ি বছরের কঠোর কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণার পর থেকেই গোটা মালদা জেলা আদালত চত্বরে চরম কৌতূহল ও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। নির্যাতিতার পরিবার ও স্বজনরা এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করলেও অপরাধীর আরও কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছেন।
ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২৩ সালের ১১ নভেম্বর, মালদার গাজোল থানার অন্তর্গত একটি সুদূর প্রত্যন্ত গ্রামে। সেই সময় ওই নাবালিকা কিশোরীর বয়স ছিল মাত্র ১৫ বছর। পুলিশ ও আদালত সূত্রে প্রাপ্ত বিবরণে প্রকাশ, ঘটনার দিন দুপুরে ওই নাবালিকা গ্রামের একটি পুকুরে স্নান করতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। ঠিক সেই সময় পরিচিত প্রতিবেশী হওয়ায় অভিযুক্ত ব্যক্তি মেয়েটিকে ডেকে পাঠায়। সরল মনে কিশোরীটি তার কাছে পৌঁছলে সুযোগ বুঝে অভিযুক্ত তার মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক নিজের ফাঁকা বাড়িতে তুলে নিয়ে যায় এবং সেখানে তার ওপর পাশবিক যৌন নির্যাতন চালায়।
পরে বাড়িতে ফিরে ভয়ে ও আতঙ্কে কাঁপতে থাকা কিশোরী সমস্ত ঘটনা তার বাবা-মাকে খুলে বলে। মেয়ের মুখ থেকে এই নৃশংস অত্যাচারের কথা শোনার পরেই তার অভিভাবকরা গাজোল থানায় গিয়ে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করার সিদ্ধান্ত নেন। ঘটনার পরের দিনই অর্থাৎ ১২ নভেম্বর নাবালিকার বাবার দায়ের করা সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে চরম তৎপরতা দেখায় গাজোল থানার পুলিশ। অভিযুক্ত পাড়াতুতো প্রতিবেশীকে দ্রুত গ্রেফতার করা হয় এবং শুরু হয় বিচার প্রক্রিয়া। দীর্ঘ তদন্ত এবং বিচার পর্ব শেষে অবশেষে পকসো আদালতের বিচারক সুস্মিতা গাইন এই রায়দান করেন।
মামলার সরকারি ও বেসরকারি আইনি প্রক্রিয়ায় মোট ১৬ জন প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন বিচারক। সমস্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ এবং সওয়াল-জবাব খতিয়ে দেখে বিচারক অভিযুক্তকে কুড়ি বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং একই সঙ্গে দুই লক্ষ টাকা আর্থিক জরিমানা অনাদায়ে আরও অতিরিক্ত ছয় মাসের জেলের সাজা ঘোষণা করেছেন। রায় ঘোষণার পর নির্যাতিতার বাবা সংবাদমাধ্যমকে প্রতিক্রিয়ায় জানান, ঘটনার এতদিন পর তাঁর মেয়ে অবশেষে ন্যায়বিচার পেল। অভিযুক্ত তাঁদের পরিচিত এবং ছোট থেকে মেয়েকে চোখের সামনে বড় হতে দেখেও এমন জঘন্য কাজ করতে পারে তা তাঁরা কল্পনাও করতে পারেননি। যদিও ফাঁসির সাজা হলে তিনি আরও বেশি খুশি হতেন, তবুও আদালতের এই রায়ে তাঁরা স্বস্তি পেয়েছেন।