সালমানের বায়েপিকের সত্যতা কতখানি? কফি উইথ করণ-এ খোলামেলা স্বীকারোক্তি ভাইজানের

বলিউডের ভাইজান সালমান খান তাঁর স্বভাবসুলভ হাস্যরস এবং খোলামেলা ব্যক্তিত্ব নিয়ে হাজির হয়েছেন জনপ্রিয় টক শো ‘কফি উইথ করণ’-এর নবম মরশুমের প্রিমিয়ার এপিসোডে। ১৪ অক্টোবর থেকে ডিজনি প্লাস হটস্টারে স্ট্রিমিং শুরু হওয়া এই শোয়ে পরিচালক করণ জোহরের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কারিশমা কাপুর, যিনি শোয়ের র্যাপিড ফায়ার রাউন্ডের পুরো দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন। দীর্ঘ আলাপচারিতায় সালমান তাঁর ব্যক্তিগত জীবন, সহকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক, বলিউড কেরিয়ার এবং নিজের জীবনের ওপর বায়োপিক তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে বেশ কিছু চমকপ্রদ মন্তব্য করেছেন। এছাড়া তিনি রণবীর সিং অভিনীত ‘ধুরন্ধর’ এবং রণবীর কাপুরের ‘অ্যানিমেল’ ছবির পারফরম্যান্স নিয়েও খোলামেলা আলোচনা করেছেন।
র্যাপিড ফায়ার রাউন্ড চলাকালীন কারিশমা কাপুর সালমান খানের কাছে জানতে চান যে, রণবীর সিং ও রণবীর কাপুরের মধ্যে কার অভিনয় বেশি প্রভাবশালী ছিল। জবাবে সালমান কাউকেই এগিয়ে না রেখে বলেন যে দুজনের অভিনয়ের শৈলী সম্পূর্ণ আলাদা। তিনি রণবীরের শক্তির এবং রণবীরের গভীর অভিনয়ের ভূয়সী প্রশংসা করেন। বিশেষ করে ‘ধুরন্ধর’ ছবিতে রণবীরের সংযত ও পরিপক্ব অভিনয়ের কদর করেন তিনি। সহকর্মীদের কথা বলতে গিয়ে সালমান শাহরুখ খান ও আমির খানকে নিজের ভাইয়ের মতো বলে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি অক্ষয় কুমারের শৃঙ্খলাপরায়ণ জীবনযাপন ও গসিপ থেকে দূরে থাকার স্বভাবের তীব্র প্রশংসা করেন। অজয় দেবগণ সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি জানান যে, তীব্র চরিত্র কিংবা কমেডি—সবক্ষেত্রেই অজয়ের জুড়ি মেলা ভার।
নিজের প্রেমের জীবন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সালমান অত্যন্ত রসাত্মক ভঙ্গিতে জানান যে, অতীতে তাঁর জীবনে ভালোবাসার বহু সময় কেটেছে এবং তিনি বিশ্বাস করেন জীবনের পরিধি ফুরিয়ে যায়নি। অনস্ক্রিন কেমিস্ট্রির প্রসঙ্গে কারিশমার নাম উল্লেখ করে তিনি জানান যে, দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময়ে তাঁরা প্রায় ১৩টি ছবিতে একসঙ্গে কাজ করেছেন, যা তাঁদের পেশাদার সফরকে অত্যন্ত বিশেষ করে তুলেছে। এছাড়া বিগ বসের ঘরে তিনি সঞ্জয় দত্তকে দেখার ইচ্ছা প্রকাশ করেন এবং তাঁর জীবনের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেন। বায়োপিকের প্রসঙ্গে সালমান জানান যে, তাঁর জীবনের বিভিন্ন পর্যায় তুলে ধরতে হলে বিভিন্ন পরিচালকের প্রয়োজন—যেমন কমেডির জন্য ডেভিড ধাওয়ান এবং ট্র্যাজেডির জন্য সঞ্জয় লীলা বনশালীর কথা ভাবা যেতে পারে। তবে তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন যে নিজের জীবনের সমস্ত সত্যি বা ব্যক্তিগত গল্প সবার সামনে তুলে ধরার কোনো ইচ্ছে তাঁর নেই। অবসরের জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে সালমান বুঝিয়ে দিয়েছেন যে অভিনয় দুনিয়া থেকে এখনই দূরে সরে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা তাঁর নেই।