সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতির কড়া বার্তা! ‘কেউ আদালতকে ভয় দেখাতে পারে না’, তপ্ত রাজনীতির মাঝে চরম হুঁশিয়ারি

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেস কুমার এবং নির্বাচন কমিশনের বিতর্কিত কর্মপদ্ধতির বিরুদ্ধে বিরোধীদের আইনি লড়াই এখন দেশের সর্বোচ্চ আদালতে গড়িয়েছে। INDIA জোটের ১৩ জন শীর্ষ নেতার পক্ষ থেকে দায়ের করা এক যৌথ জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে এক অত্যন্ত উত্তপ্ত পরিবেশের সৃষ্টি হয়। নির্বাচন কমিশন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং অপর দুই নির্বাচন কমিশনারকে ইতিমধ্যেই আনুষ্ঠানিক নোটিশ জারি করেছে শীর্ষ আদালত। তবে এই পুরো মামলার শুনানিপর্বেই সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি (CJI) বিচারপতি সূর্য কান্ত নির্বাচন কমিশন বা আদালতের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক চাপ তৈরির প্রচেষ্টার তীব্র সমালোচনা করেন এবং অত্যন্ত কড়া ভাষায় নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

শুনানির শুরুতেই সিজেআই বিচারপতি সূর্য কান্ত অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে সাফ জানিয়ে দেন যে, কোনো পক্ষ বা শক্তিই দেশের সর্বোচ্চ আদালতকে ভয় দেখাতে বা প্রভাবিত করতে পারে না। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন যে, এই ধরনের চাপ সৃষ্টির কৌশলগুলি সম্পূর্ণ অর্থহীন এবং অকার্যকর, যেগুলিতে আদালত বিন্দুমাত্র কর্ণপাত করে না। বিচারপতির এই মন্তব্যের নেপথ্যে ছিল গত কয়েক দিন ধরে সুপ্রিম কোর্ট চত্বর বা তার বাইরে বিরোধীদের প্রতিবাদ মিছিল ও লাগাতার রাজনৈতিক চাপ বাড়ানোর প্রবণতা। সিজেআই আরও বলেন যে, বাইরে বা অন্দরে কী ধরনের রাজনৈতিক বিতর্ক বা আলোচনা চলছে, সে বিষয়ে আদালত সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল রয়েছে। বিচারপতির দ্ব্যর্থহীন ঘোষণা, “আমরা কোনো কাল্পনিক দুনিয়ায় বাস করছি না… দেশের প্রতি মুহূর্তের পরিস্থিতি ও খবরাখবর আমাদের নখদর্পণে রয়েছে।”

অন্যদিকে, মামলার কার্যবিবরণী পেশ করতে গিয়ে প্রবীণ আইনজীবী ও কংগ্রেস সাংসদ কপিল সিব্বল আদালতে জানান যে, এই নতুন মামলাটি মূলত কয়েকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ও আইনি বিষয়ের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এর মধ্যে প্রথমত রয়েছে ধারা ১৮-এর অধীনে যৌথ বা সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার একচ্ছত্র অধিকার সংক্রান্ত বিতর্ক, এবং দ্বিতীয়ত ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে ফর্ম ৬ এবং ফর্ম ৭-এর কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন। সিব্বলের এই বক্তব্যের পরই আদালত জানিয়ে দেয় যে, তারা এই বিষয়ে নোটিশ জারি করতে প্রস্তুত, তবে তার আগে মামলার অন্যতম একজন আবেদনকারীকে তাঁর বিগত রাজনৈতিক আচরণ ও জনসমক্ষে করা মন্তব্য নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দিষ্ট প্রশ্নের সন্তোষজনক জবাব দিতে হবে।

বিচারপতি স্পষ্ট করে দেন যে, নোটিশ জারি করার অর্থ এই নয় যে আদালত প্রাথমিকভাবেই কোনো পক্ষকে দোষী সাব্যস্ত করছে বা কোনো ব্যবস্থার নিন্দা করছে, কিন্তু আদালতের বিচারপ্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার কোনো অবকাশ এখানে নেই। উল্লেখ্য, এই যৌথ পিটিশনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেস কুমার ও অন্য দুই কমিশনারের পাশাপাশি ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় পুনরীক্ষণ বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া এবং নির্বাচন কমিশনের সামগ্রিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বচ্ছতা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলা হয়েছে। ১৩ জন বিশিষ্ট বিরোধী নেতার আনা এই চাঞ্চল্যকর মামলার পরবর্তী শুনানিতে দেশের রাজনীতির পারদ যে আরও চড়বে, তা বলাই বাহুল্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *