“৫৫০ কোটির মেগা প্রজেক্ট!”-বলাগড় মিনি পোর্ট চালু হলে—কতটা লাভ হবে জানেন?

দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে হুগলির বলাগড়ে মিনি বন্দর (Mini Port) তৈরির কাজে অবশেষে এল বড় গতি। সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হলো এই প্রকল্পের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংযোগকারী রাস্তার ভূমিপুজো। এদিনের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব লকেট চট্টোপাধ্যায় এবং বলাগড়ের বিধায়ক সুমনা সরকার। এই ভূমিপুজোর সুবাদে বলাগড় মিনি পোর্ট প্রকল্পের রাস্তা ও সেতু নির্মাণের কাজ এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে করা হচ্ছে।
প্রায় ৯০০ একর জমি জুড়ে গড়ে উঠতে চলা এই মেগা প্রকল্পের জন্য আনুমানিক ৫৩৯ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। ভৌগোলিক দিক থেকে বলাগড়ের অবস্থান অত্যন্ত সুবিধাজনক হওয়ায়, গঙ্গাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই বন্দর এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ বদলে দেবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এখানে একটি আধুনিক পোর্ট টার্মিনাল, দুটি জেটি এবং প্রায় চার কিলোমিটার দীর্ঘ সংযোগকারী রাস্তা তৈরি করা হবে।
বলাগড় মিনি পোর্ট চালুর লাভ কী?
মূলত কৃষিপ্রধান অঞ্চল হওয়া সত্ত্বেও বলাগড়ে এই অভ্যন্তরীণ জলবন্দর তৈরি হলে স্থানীয় অর্থনীতিতে বিরাট জোয়ার আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই বন্দর চালুর ফলে সড়কপথ, রেলপথ এবং অভ্যন্তরীণ জলপথ—এই তিন মাধ্যমেই পণ্য পরিবহণের পরিকাঠামো বহুগুণ শক্তিশালী হবে। অনুমান করা হচ্ছে, এই প্রকল্প পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে প্রত্যক্ষভাবে প্রায় ১,৫০০ এবং পরোক্ষভাবে প্রায় ১৫,০০০ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। আগামী দু’বছরের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
কলকাতার ওপর চাপ কমবে কীভাবে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, কলকাতার সঙ্গে বলাগড়ের ভৌগোলিক দূরত্ব খুব বেশি নয়। ফলে এই মিনি বন্দরটি পণ্য পরিবহণের এক দুর্দান্ত বিকল্প কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। এতদিন যে সমস্ত পণ্য সরাসরি কলকাতা বা হলদিয়া বন্দরের ওপর নির্ভর করে আনা-নেওয়া করতে হতো, তার একটি বড় অংশ ভবিষ্যতে এই বলাগড় জলবন্দরের মাধ্যমে পরিচালিত হতে পারে। এর ফলে একদিকে যেমন কলকাতা বন্দরের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমবে, তেমনই রাজ্য তথা দেশের বাণিজ্য গতিশীলতাও নতুন উচ্চতা স্পর্শ করবে।