জানালা খুললেই ছোঁয়া যায় মেঘ! ঘুম ভাঙবে কাঞ্চনজঙ্ঘার মোহময়ী আলোয়, ঘুরে আসুন এই অফবিট ডেস্টিনেশন থেকে

প্রতি বছর পুজোর ছুটি বা শীতের আমেজ শুরু হতেই পাহাড়প্রেমীদের ভিড় বাড়ে দার্জিলিং কিংবা সান্দাকফুতে। তবে যারা একটু শান্ত পরিবেশ, হুটার বাজানো গাড়ি আর উপচে পড়া ভিড় থেকে দূরে নিরিবিলিতে ছুটি কাটাতে চান, তাঁদের জন্য এবার দারুণ এক ঠিকানার সন্ধান মিলল। দার্জিলিংয়ের চেনা ভিড় ছেড়ে এবার ঘুরে আসতে পারেন মেঘের রাজ্য ‘গুফাপাতাল’ থেকে।

নামটা শুনলেই যেমন রহস্যময় ও রোমাঞ্চকর মনে হয়, বাস্তবেও এই জায়গার সৌন্দর্য ঠিক তেমনই মোহময়ী। দার্জিলিং থেকে মাত্র ৩৫ কিলোমিটার দূরে, ভারত-নেপাল সীমান্তে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৮৫০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই ছোট্ট গ্রামটি এখনও বহু পর্যটকের কাছেই ছায়ার মতো অচেনা। স্থানীয়দের কাছে এটি ‘মেঘের গ্রাম’ নামেই পরিচিত।

গুফাপাতালে কী কী দেখবেন?

  • মেঘের ওপরে বসবাস: এখানে পৌঁছলে মনে হবে আপনি আক্ষরিক অর্থেই মেঘের ওপর ভাসছেন। সকালবেলা হোমস্টের জানালা খুললেই ঘরে ঢুকে আসে মেঘের ভেলা। সারাদিন ধরে চলে রোদ ও মেঘের লুকোচুরি খেলা।

  • কাঞ্চনজঙ্ঘার প্যানোরামিক ভিউ: আকাশ পরিষ্কার থাকলে এখানকার যেকোনো হোমস্টের বারান্দা থেকেই কাঞ্চনজঙ্ঘার মনোমুগ্ধকর ১৮০ ডিগ্রি ভিউ উপভোগ করা যায়। এখান থেকে স্পষ্ট দেখা মেলে বিখ্যাত ‘স্লিপিং বুদ্ধ’ রেঞ্জও।

  • পাইন বনের নিরিবিলি কোল: কংক্রিটের জঙ্গল বা গাড়ির হর্নের কোলাহল থেকে শতহাত দূরে এই গ্রামে চারদিকে রয়েছে শুধু ঘন পাইন বন আর কাঠের কিছু সুন্দর হোমস্টে। পাখির ডাক আর ঝিঁঝিঁ পোকার শব্দে ঘেরা এই জায়গা ফটোগ্রাফারদের কাছে কোনো স্বর্গরাজ্যের চেয়ে কম নয়।

  • ট্রেকিং ও আশপাশের এলাকা: গুফাপাতালকে বেস ক্যাম্প বানিয়ে অনায়াসেই ঘুরে নেওয়া যায় টংলু, টুমলিং কিংবা কালাপোখরি। এমনকি এখান থেকেই শুরু হয় রোমাঞ্চপ্রেমীদের বহু প্রতীক্ষিত সান্দাকফু ট্রেক।

কীভাবে যাবেন এবং কোথায় থাকবেন?

শিলিগুড়ি বা এনজেপি (NJP) স্টেশন থেকে প্রথমে শেয়ার গাড়িতে পৌঁছতে হবে মানেভঞ্জন। সময় লাগবে প্রায় তিন ঘণ্টা। সেখান থেকে ল্যান্ডরোভার বা ছোট গাড়ি রিজার্ভ করে মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই পৌঁছে যাওয়া যায় গুফাপাতাল। পাহাড়ের আঁকাবাঁকা ও সবুজ রাস্তার সৌন্দর্য পথের সমস্ত ক্লান্তি একনিমেষে দূর করে দেবে।

থাকার জন্য এখানে রয়েছে ৪-৫টি চমৎকার ও আরামদায়ক হোমস্টে। জনপ্রতি মাত্র ১৩০০ থেকে ১৫০০ টাকার মধ্যেই থাকা এবং তিন বেলা সুস্বাদু খাবারের বন্দোবস্ত হয়ে যায়। স্থানীয় মানুষগুলোর উষ্ণ আতিথেয়তা এবং গরম গরম মোমো আর ধোঁয়া ওঠা দার্জিলিং চায়ে চুমুক দিয়ে মেঘের খেলা দেখার এই অনুভূতি আপনার ভ্রমণ তালিকায় এক অন্য মাত্রা যোগ করবে। তাই আর দেরি না করে এই পুজো বা শীতে ব্যাগ গুছিয়ে বেরিয়ে পড়ুন গুফাপাতালের উদ্দেশ্যে!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *