যোগী সরকারের বড় দাবি! উত্তরপ্রদেশে উৎসবের আগে উপদ্রব বন্ধ, বদলাল অপরাধীদের দিনকাল

উত্তরপ্রদেশের আইন-শৃঙ্খলা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার চিত্রটা এখন পুরোপুরি বদলে গেছে। অতীতে উৎসবের দিনে যেখানে সাধারণ মানুষের মনে উপদ্রব ও দাঙ্গার আতঙ্ক কাজ করত, আজ সেখানে নির্ভয়ে মেতে ওঠার আনন্দ বিরাজ করছে। সম্প্রতি বরেলীতে এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বিগত সরকারের আমলকে তীব্র আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, ২০১৭ সালের আগের উত্তরপ্রদেশ আর আজকের উত্তরপ্রদেশের মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাত রয়েছে। আজ রাজ্যের মানুষ উৎসবের মরশুমে সম্পূর্ণ ভীতিহীন হয়ে মন্দিরে পুজো দিচ্ছেন এবং আনন্দের সঙ্গে पर्व উদযাপন করছেন।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ২০১৭ সালের আগে উত্তরপ্রদেশে যেকোনো ধর্মীয় উৎসব বা পর্ব আসার অর্থই ছিল এক অজানা উপদ্রবের আশঙ্কা। বিশেষ করে বরেলীর মতো সংবেদনশীল এলাকায় উৎসবের আগেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ত। কিন্তু ডাবল ইঞ্জিন সরকারের আমলে সেই দিন এখন অতীত। বর্তমানে মা ভগবতীর আরাধনা এবং নবরাত্রির প্রথম দিন থেকেই রাজ্যজুড়ে যে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তা মানুষের সুরক্ষার প্রতি অগাধ বিশ্বাসের কথাই প্রমাণ করে। বিন্দ্যবাসিনী কিংবা ললিতা দেবীর মতো শক্তিপীঠগুলিতে প্রতিদিন উপচে পড়া ভক্তের ভিড়ই তার সেরা উদাহরণ।

দেশজুড়ে ইউপির মানুষের প্রতি বদলেছে দৃষ্টিভঙ্গি:
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন যে, ২০১৭ সালের আগে উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দাদের দেশের অন্যান্য রাজ্যে গেলে এক অদ্ভুত পরিচয় সংকটের মুখে পড়তে হতো। ভিনরাজ্যে হোটেল, ধর্মশালা কিংবা ট্রেন-বাসে উঠলেই ইউপির লোকেদের সন্দেহের চোখে দেখা হতো এবং নানা সমস্যায় পড়তে হতো।

কিন্তু গত কয়েক বছরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে এবং রাজ্যের ডাবল ইঞ্জিন সরকারের প্রচেষ্টায় উত্তরপ্রদেশের ভাবমূর্তি আমূল পাল্টে গেছে। এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “এখন দেশের অন্য কোথাও কেউ জানতে পারলে যে আমরা উত্তরপ্রদেশ থেকে এসেছি, তখন আর কেউ দূরত্ব বজায় রাখে না; বরং তাঁরা কাছে ডেকে বুকে জড়িয়ে ধরেন এবং বলেন যে আমরাও আপনাদের রাজ্যের মতো শান্ত ও উন্নত হয়ে উঠতে চাই।”

রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা আরও নিবিড় করতে পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি হোমগার্ড, পিআরডি (PRD) এবং গ্রাম প্রহরীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যে নিরাপত্তা, সম্মান এবং স্বাবলম্বন—এই তিনটি বিষয়কেই বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *