গ্রিন টি খাচ্ছেন ওজন কমানোর জন্য? এই ভুল করলে কমবে না তো বটেই, উল্টে বড় বিপদ ডেকে আনছেন!

ওজন কমানোর ডায়েট চার্ট কিংবা শরীর চাঙ্গা রাখতে গ্রিন টি-র জুড়ি মেলা ভার। ক্যাফেইনযুক্ত সাধারণ চায়ের অভ্যাস বাদ দিয়ে স্বাস্থ্যসচেতন মানুষ এখন ভরসা রাখেন এই সবুজ পানীয়ের ওপরই। কিন্তু পুষ্টিবিদদের মতে, ওজন কমানো বা মেটাবলিজম বাড়ানোর আশায় অনেকেই দিনের পর দিন ভুল পদ্ধতিতে গ্রিন টি পান করে চলেছেন। আর এর ফলে কাঙ্ক্ষিত ফল তো মেলেই না, উল্টে শরীরে দেখা দিতে পারে নানা জটিল শারীরিক সমস্যা।
বিশেষজ্ঞদের একটি বড় অংশের মতে, গ্রিন টি-তে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও ক্যাটেচিন শরীরের ফ্যাট বার্ন করতে সাহায্য করে ঠিকই, কিন্তু কিছু সাধারণ নিয়ম না মানলে এই পানীয় হিতে বিপরীত হতে পারে। যেমন—খাবারের ঠিক পরেই গ্রিন টি পান করা, অতিরিক্ত গরম জলে চা পাতা ফুটিয়ে খাওয়া কিংবা সারাদিনে মাত্রাতিরিক্ত কাপ গ্রিন টি খাওয়ার অভ্যাস ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ।
কোন ভুলগুলি করা একদম উচিত নয়?
খাবারের ঠিক পরেই পান করা: অনেকেই মনে করেন ভারী খাওয়ার পরপরই গ্রিন টি খেলে খাবার দ্রুত হজম হবে। কিন্তু চিকিৎসকরা বলছেন, এর ফলে খাবারে থাকা পুষ্টি উপাদান ও আয়রন শরীর ঠিকমতো শোষণ করতে পারে না, যা পরবর্তীতে রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়ার কারণ হতে পারে।
অতিরিক্ত গরম জলে ফোটানো: অনেকেই চা পাতা খুব বেশিক্ষণ ধরে ফোটান। এতে গ্রিন টি-র পুষ্টিগুণ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায় এবং পানীয়টি অতিরিক্ত তেঁতো হয়ে যায়, যা অম্বল ও গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বাড়িয়ে দেয়।
খালি পেটে চুমুক দেওয়া: সকালে ঘুম থেকে উঠেই খালি পেটে গ্রিন টি পান করার অভ্যাস থাকলে তা পাকস্থলীর অ্যাসিডের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে বুক জ্বালা, বদহজম এবং পেটে মারাত্মক অস্বস্তি তৈরি হতে পারে।
সঠিক নিয়ম কী?
পুষ্টিবিদরা পরামর্শ দিচ্ছেন, খাবার খাওয়ার অন্তত এক ঘণ্টা আগে কিংবা পরে গ্রিন টি পান করা সবচেয়ে লাভজনক। দিনে সর্বোচ্চ দুই থেকে তিন কাপের বেশি গ্রিন টি না খাওয়া এবং সবসময় হালকা গরম জলে সঠিক সময় ধরে এটি তৈরি করাই স্বাস্থ্যসম্মত।
ওজন কমানোর এই জনপ্রিয় পানীয়টি থেকে সম্পূর্ণ সুফল পেতে আজই নিজের অভ্যাসে এই ছোট পরিবর্তনগুলি এনে ফেলুন। সামান্য সচেতনতাই আপনাকে রাখতে পারে সুস্থ ও বিপদমুক্ত।