শিশুর হাতে ফোন বা কম্পিউটার? জেনে নিন দৈনিক সীমার হিসাব, একটানা দেখলে যে ভয়ানক ঝুঁকি বাড়ে!

আজকের ডিজিটাল যুগে পড়াশোনা থেকে শুরু করে বিনোদন—সবকিছুতেই শিশুর হাতের মুঠোয় চলে এসেছে স্মার্টফোন, ট্যাবলেট কিংবা কম্পিউটার। সন্তানকে শান্ত রাখা কিংবা খাবার খাওয়ানোর সহজ কৌশল হিসেবে অনেক বাবা-মাও নিজের অজান্তেই শিশুর হাতে তুলে দিচ্ছেন এসব গ্যাজেট। কিন্তু এই নীল পর্দার নেশা যে শিশুর চোখের আলো ছিনিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি তার মানসিক ও শারীরিক বিকাশকে পঙ্গু করে দিচ্ছে, তা চিকিৎসকদের সতর্কবার্তায় বারে বারে উঠে আসছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং ইন্ডিয়ান একাডেমি অফ পেডিয়াট্রিক্স (IAP)-এর নির্দেশিকা অনুযায়ী, ২ বছর বয়সের নিচে শিশুদের কোনো ধরনের ডিজিটাল স্ক্রিন দেখানোই উচিত নয়। ২ থেকে ৫ বছর বয়সীদের জন্য দৈনিক সর্বোচ্চ ১ ঘণ্টা এবং ৫ বছরের ওপরের শিশুদের জন্য দিনে সর্বোচ্চ ২ ঘণ্টার বেশি স্ক্রিন টাইম অত্যন্ত ক্ষতিকর।

সীমার বেশি স্ক্রিন টাইম হলে কী মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে? চোখের মারাত্মক ক্ষতি ও ড্রেন আই: দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার ফলে শিশুদের চোখ থেকে জল শুকিয়ে ড্রাই আইসের সমস্যা তৈরি হয়। অল্প বয়সেই চোখের পাওয়ার বেড়ে গিয়ে চশমা লাগা এবং মায়োপিয়ার ঝুঁকি বহু গুণ বাড়ে।

মস্তিষ্কের ও মানসিক বিকাশে বাধা: অতিরিক্ত ফোন বা কম্পিউটারের ব্যবহারের ফলে শিশুদের মনোযোগ ক্ষমতার ঘাটতি ঘটে (ADHD), ভাষা শেখার গতি ধীর হয়ে যায় এবং তারা বাস্তব সামাজিক সম্পর্ক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ঘুমের চরম ব্যাঘাত: স্ক্রিন থেকে নির্গত ‘ব্লু লাইট’ বা নীল আলো শিশুর শরীরে মেলাটোনিন হরমোনের ক্ষরণ কমিয়ে দেয়। ফলে শিশু অনিদ্রা, রাতে ঘন ঘন জেগে ওঠা এবং খিটখিটে মেজাজের শিকার হয়। স্থূলতা ও শারীরিক সমস্যা: এক জায়গায় অলসভাবে বসে স্ক্রিন দেখার কারণে শারীরিক সক্রিয়তা কমে যায়, যা খুব অল্প বয়সে স্থূলতা (Obesity), পিঠের ব্যথা এবং ভুল অঙ্গবিন্যাস বা পোশ্চারের সমস্যা তৈরি করে।

অভিভাবকদের করণীয় কী?বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাতারাতি ফোন কেড়ে না নিয়ে শিশুকে কৌশলে এই অভ্যাস থেকে বের করতে হবে। পড়ার টেবিল বা শোবার ঘরে কোনো ডিজিটাল ডিভাইস রাখা যাবে না। খাবার খাওয়ার সময় সম্পূর্ণ প্রযুক্তি-মুক্ত পরিবেশ বজায় রাখা জরুরি। এছাড়াও চোখের ওপর চাপ কমাতে ‘২০-২০-২০ নিয়ম’ (প্রতি ২০ মিনিট পর ২০ ফুট দূরের জিনিসের দিকে ২০ সেকেন্ড তাকিয়ে থাকা) অভ্যাস করানো এবং শিশুকে বাইরের খেলাধুলায় উৎসাহিত করাই এর আসল সমাধান। সন্তানের উজ্জ্বল ও সুস্থ ভবিষ্যতের স্বার্থে আজ থেকেই তাদের স্ক্রিন টাইমে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আনুন। সামান্য অবহেলা কিন্তু বাচ্চার জীবনকে বড় বিপদের মুখে ঠেলে দিতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *