“ভারত-বিরোধী শক্তি ও বদমাইশদের শেষ করে দাও মা!” দুর্গাপুজোর প্রাক-উৎসবে দাঁড়িয়ে কার বিনাশ চাইলেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল?

আর মাত্র কয়েকদিনের অপেক্ষা। চারদিকে এখন কেবলই শারদোৎসবের আনন্দ ও পুজোর গন্ধ। এর মাঝেই সোমবার রাতে দুর্গাপুরের সিটি সেন্টারে এক বর্ণাঢ্য প্রাক-উৎসবের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে মা দুর্গার কাছে এক বিস্ফোরক প্রার্থনা জানালেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। দেবী উমার আরাধনায় মগ্ন হয়ে এদিন তিনি প্রার্থনা করেন, “ভারত-বিরোধী শক্তি ও বদমাইশদের শেষ করে দাও মা।”

এদিন দুর্গাপুরের জমজমাট সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং আলোর রোশনাইয়ে বাজি ফাটানোর পর্ব চুটিয়ে উপভোগ করেন মন্ত্রী। রাজ্যবাসীকে শারদীয়ার আগাম শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে সরকারি নির্দেশিকা মেনে চলার বিশেষ অনুরোধও জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, পুজোর দিনগুলিতে সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে সমস্ত জরুরি পরিষেবা পুরোপুরি সচল থাকবে এবং পুলিশ-প্রশাসনও কড়া নিরাপত্তায় রাস্তায় মোতায়েন থাকবে।

ইডেন গার্ডেন্সের অনুষ্ঠান নিয়ে বিরোধীদের নিশানা:
সাম্প্রতিক অতীতে বিজেপির বিরুদ্ধে বাংলা ও বাঙালি সংস্কৃতিবিরোধী হওয়ার যে রাজনৈতিক প্রচার চলেছে, মহালয়ার দিন কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে হওয়া দুর্গাপুজোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মানুষের ঢল সেই সমস্ত প্রচারকে চিরতরে ভুল প্রমাণ করে দিয়েছে বলে দাবি করেছেন অগ্নিমিত্রা। নিজেকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর অনুগত সৈনিক বলে দাবি করে তিনি বলেন, বাংলার মানুষ যেন কোনো রকম ভয় বা দুশ্চিন্তা ছাড়াই আসন্ন দুর্গোৎসব নিশ্চিন্তে উপভোগ করেন।

রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক প্রস্তুতির কথা তুলে ধরে তিনি জানান, পুজোর ক’দিন সরকারের পক্ষ থেকে সমস্ত দফতরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের উৎসব যাতে নির্বিঘ্ন হয়, তার জন্য প্রশাসন সর্বদা সজাগ থাকবে।

এদিনের এই জমকালো অনুষ্ঠানে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসক এস পন্নামবলাম, দুর্গাপুর পূর্বের বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়, দুর্গাপুর পশ্চিমের বিধায়ক লক্ষ্মণচন্দ্র ঘোড়ুই সহ শহরের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। রাজনৈতিক বার্তার পাশাপাশি উৎসবের আবহে মন্ত্রীর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র চর্চা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *