ফেসবুক লাইভ চলাকালীন গুলি করে খুন মাদকবিরোধী কর্মী! মানসার সেই শিহরণ জাগানো ভিডিও দেখলে শিউরে উঠবেন!

মাদক কারবারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে প্রাণ হারালেন পাঞ্জাবের পরিচিত সমাজকর্মী পরবিন্দর সিং ঝোটা (Parvinder Singh Jhota)। মঙ্গলবার পাঞ্জাবের মানসা (Mansa) জেলায় এক মেডিক্যাল স্টোরের মালিকের সঙ্গে বচসার জেরে গুলিতে নিহত হন তিনি। নিষিদ্ধ ও নেশাজাতীয় ওষুধ বিক্রির প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে অভিযুক্ত দোকানমালিকের গুলিতে যেভাবে তাঁর প্রাণ গেল, তার সম্পূর্ণ লাইভ সম্প্রচার চলছিল তাঁর নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে। ঘটনার আকস্মিকতা ও নৃশংসতায় গোটা পাঞ্জাব জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ফেসবুক লাইভে ধরা পড়ল খুনের মুহূর্ত:
এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় পাঁচ মিনিটের ওই ফেসবুক লাইভ ভিডিওতে দেখা যায়, এক বয়স্ক ব্যক্তিকে পাশে নিয়ে একটি মেডিক্যাল স্টোরের সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন পরবিন্দর। ওই বৃদ্ধ দোকান থেকে অবৈধভাবে নেশাজাতীয় ওষুধ কিনেছেন বলে দাবি করেন তিনি। এরপরই দোকানমালিকের সঙ্গে তাঁর তীব্র বাদানুবাদ শুরু হয়। ভিডিওতে ঝোটাকে বলতে শোনা যায়, দোকানমালিকের কাছে অস্ত্র বা পিস্তল কেন রয়েছে? একই সঙ্গে তিনি দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ জনসমক্ষে আনার দাবি জানান।
পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হতে শুরু করলে দোকানমালিকের হাতে পিস্তল দেখা যায়। সেই চরম উত্তেজনার মুহূর্তে ঝোটাকে বলতে শোনা যায়, “মার আমাকে, মার আমাকে।” পাশাপাশি তিনি তাঁর সঙ্গীদের পুলিশে খবর দিতে এবং আরও লোকজনকে দ্রুত ঘটনাস্থলে ডেকে পাঠাতে বলেন। দোকানমালিক যখন ওই বৃদ্ধকে প্রশ্ন করেন যে তিনি সেখান থেকে নেশার ওষুধ নিয়েছেন কি না, তখন ঝোটা দৃঢ়ভাবে জানান যে তাঁদের কাছে তার অকাট্য রেকর্ডিং রয়েছে।
এরপরই ঘটে যায় মর্মান্তিক ঘটনা। বচসা শুরু হওয়ার প্রায় চার মিনিটের মাথায় দোকানমালিক গুলি চালান বলে অভিযোগ। সরাসরি গুলিতে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন পরবিন্দর সিং ঝোটা। গুলির শব্দের পরেই তাঁর হাত থেকে মোবাইল ফোনটি মাটিতে পড়ে যায় এবং ফেসবুক লাইভটি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। ঘটনার পর থেকেই পলাতক অভিযুক্ত দোকানমালিকের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।
কে ছিলেন পরবিন্দর সিং ঝোটা?
মানসা ও তার আশেপাশের এলাকায় মাদকবিরোধী আন্দোলনের অত্যন্ত পরিচিত মুখ ছিলেন পরবিন্দর। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ওষুধের দোকানে বেআইনি ও নিষিদ্ধ নেশাজাতীয় ওষুধ বিক্রি করা হচ্ছে—এই অভিযোগ তুলে তিনি একা হাতে সরব হতেন। সন্দেহভাজন দোকানগুলিতে আকস্মিক হানা দিয়ে প্রশ্ন করা এবং সেই গোটা ঘটনার লাইভ ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করাই ছিল তাঁর প্রতিবাদ করার অনন্য পদ্ধতি। ফেসবুকে তাঁর অনুগামীর সংখ্যা ছিল ২৪ হাজারের বেশি।
উল্লেখ্য, এর আগেও ২০২৩ সালে একটি ওষুধের দোকানের মালিকের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে পড়েছিলেন তিনি। সেই সময় তাঁর বিরুদ্ধে মারধর ও অনধিকার প্রবেশের অভিযোগে মামলা হয়েছিল এবং তিনি প্রায় দু’মাস জেল খেটেও মুক্তি পেয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মাদক চক্রের বিরুদ্ধে লড়তে লড়তেই ক্যামেরার সামনে প্রাণ হারাতে হলো এই প্রতিবাদী তরুণকে।