ভোররাতে বিকট শব্দ ও তীব্র আতঙ্ক! পাকিস্তানে লাইনচ্যুত এক্সপ্রেস ট্রেন, হুড়মুড়িয়ে উলটে গেল ১৪টি কামরা!

প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানে ফের এক মর্মান্তিক রেল দুর্ঘটনার সাক্ষী থাকল বিশ্ব। মঙ্গলবার ভোরে পাকিস্তানের পঞ্জাব প্রদেশে ভয়াবহ লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনার জেরে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৫ জন যাত্রী। আহত হয়েছেন আরও ৩০ জনেরও বেশি মানুষ। জরাজীর্ণ পরিকাঠামো এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক অনুমান।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘জিও নিউজ’ ও আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা ‘এপি’-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার ভোর ৫টা ১৫ মিনিট নাগাদ পঞ্জাবের শের শাহ এলাকায় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে জনপ্রিয় ‘রেহমান বাবা এক্সপ্রেস’ (Rehman Baba Express) ট্রেনটি। পাকিস্তানের দক্ষিণের বন্দর শহর করাচি থেকে উত্তর-পশ্চিমের পেশোয়ার শহরের দিকে যাওয়ার পথেই এই বিপত্তি ঘটে। ট্রেনটির গতি বেশি থাকায় লাইনচ্যুত হওয়ার পর একের পর এক কামরা লাইন থেকে ছিটকে পড়তে শুরু করে। ট্রেনের ১৪টি বগি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ:
ভোররাতের এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে ছুটে যায় স্থানীয় উদ্ধারকারী দল, রেলের উচ্চপদস্থ আধিকারিক ও পুলিশ প্রশাসন। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ট্রেনের দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া কামরাগুলিতে আটকে থাকা যাত্রীদের বের করে আনার কাজ শুরু হয়। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য মুলতানের নিশতার হাসপাতালে (Nishtar Hospital) ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে এখনও উদ্ধারকাজ ও ট্র্যাক পরিষ্কারের কাজ চলছে।
পাকিস্তানের দুর্বল রেল পরিকাঠামো:
উল্লেখ্য, পাকিস্তানে ট্রেন দুর্ঘটনা নতুন কিছু নয়। দশকের পর দশক ধরে পর্যাপ্ত বিনিয়োগের অভাব, অত্যন্ত পুরনো ও জরাজীর্ণ রেললাইন এবং ত্রুটিপূর্ণ সিগন্যালিং ব্যবস্থার কারণে দেশটির রেল পরিষেবা প্রায়শই ভেঙে পড়ে। এর আগেও ২০২৩ সালে পাকিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলে একটি যাত্রীবাহী ট্রেনের ১০টি কামরা লাইনচ্যুত হয়ে প্রায় ৩০ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছিল এবং আহত হয়েছিলেন ৯০ জনেরও বেশি।
এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারি এবং প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। আহত যাত্রীরা যাতে দ্রুত ও উন্নত চিকিৎসা পান, সেই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন তাঁরা।