রনজিতে রূপকথার কামব্যাক জম্মু-কাশ্মীরের! রোহিত শর্মার বিধ্বংসী বোলিংয়ে মাত্র ১৯৬ রানে গুটিয়ে গেল মধ্যপ্রদেশ

চলতি রনজি ট্রফি ২০২৬-২৭ মরশুমে নিজেদের ডিফেন্ডিং খেতাব রক্ষার লড়াইয়ে দুর্দান্ত সূচনা করল জম্মু ও কাশ্মীর। রবিবার শ্রীনগরের শের-ই-কাশ্মীর স্টেডিয়ামে মরসুমের প্রথম ম্যাচের প্রথম দিনেই মধ্যপ্রদেশকে মাত্র ১৯৬ রানে অলআউট করে ম্যাচের রাশ নিজেদের হাতে নিয়ে নিল ভূস্বর্গের দল। চলতি বছরের শুরুর দিকেই ইতিহাসের প্রথম রনজি ট্রফি জয় করে হৈচৈ ফেলে দেওয়া জম্মু-কাশ্মীর আবারও প্রমাণ করল যে তাদের পেস আক্রমণ কতটা ভয়ঙ্কর।
রোহিত শর্মার ধ্বংসাত্মক কামব্যাক
রবিবারের এই ম্যাচের প্রধান আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন পেসার রোহিত শর্মা। দীর্ঘ প্রায় দুই বছর পর জম্মু ও কাশ্মীরের হয়ে রনজি ম্যাচ খেলতে নেমে তিনি একপ্রকার ধ্বংসাত্মক রূপ ধারণ করেন। ২১.২ ওভার বল করে মাত্র ৩৬ রান খরচ করে ৫টি উইকেট শিকার করেন তিনি। ৩২ বছর বয়সী এই ডানহাতি পেসার এর আগে ২০২৪ সালের অক্টোবরের পর থেকে দলের বাইরে ছিলেন এবং সার্ভিসেসের বিরুদ্ধে ম্যাচে কোনো উইকেট পাননি। দীর্ঘ বিরতির পর তাঁর এমন দুর্দান্ত কামব্যাক ক্রিকেট মহলে দারুণ সাড়া ফেলেছে।
রোহিতের এই সাফল্যে দারুণভাবে সহযোগিতা করেছেন আরেক পেসার সুনীল কুমার। জম্মু ও কাশ্মীরের অধিনায়ক পরস ডোগরা টস জিতে প্রথমে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর, রোহিত ও সুনীলের সুসংহত পেস আক্রমণে খেই হারিয়ে ফেলে মধ্যপ্রদেশ। সুনীল ২৩ ওভারে ৬৯ রান দিয়ে ৪টি উইকেট তুলে নেন। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনায় থাকা আকিব নবীও ২০ ওভার বল করে ১টি উইকেট শিকার করেন।
মধ্যপ্রদেশের ব্যাটিং বিপর্যয় ও জম্মু-কাশ্মীরের শুরু
প্রতিপক্ষের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইন-আপের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে মধ্যপ্রদেশের অধিনায়ক শুভম শর্মা ১৭৪ বলে সর্বোচ্চ ৭৯ রান করেন এবং ৮ নম্বরে নেমে আরিয়ান পান্ডে ৬০ বলে ৩৫ রান যোগ করলেও দলের স্কোর ২০০ পার করাতে পারেননি। মাত্র ৭৪.২ ওভারেই মধ্যপ্রদেশের পুরো ইনিংস গুটিয়ে দেয় জম্মু ও কাশ্মীরের বোলিং ব্রিগেড।
তবে জবাবে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের শুরুতেই ধাক্কা খেয়েছে জম্মু ও কাশ্মীর। মধ্যপ্রদেশের তারকা পেসার আবেশ খানের দুর্দান্ত বোলিংয়ের মুখে পড়ে ওপেনার শুভম খাজুরিয়া খাতা খোলার আগেই এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন। প্রথম দিনের খেলা শেষে জম্মু ও কাশ্মীর শিবির এখন প্রাথমিক ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়ানোর ছক কষছে।