‘আমাকে গৃহবন্দি করা হয়েছে,’-ধ্রুব রাঠির বাড়ি ঘিরে ফেলেছে পুলিশ? জানালেন ইউটিউবার

তাঁকে ঘিরে রেখেছে ৫০ জনেরও বেশি পুলিশ কর্মী। প্রতিবাদী মিছিলে সামিল হলেই তৎক্ষণাৎ তুলে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে—পুলিশের বিরুদ্ধে এমনই চাঞ্চল্যকর ও গুরুতর অভিযোগ তুললেন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি। সম্প্রতি একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের ওপর চলা পুলিশি কড়াকড়ি এবং হেনস্থার বিবরণ দিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি।
ঠিক কী অভিযোগ করেছেন ধ্রুব রাঠি? সাক্ষাৎকারে ধ্রুব রাঠি জানান, INDIA জোটের সুপ্রিম কোর্ট অভিযানে যোগ দেওয়া এবং জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভে সামিল হওয়ার ইচ্ছা ছিল তাঁর। কিন্তু তার আগেই গুরুগ্রামে তাঁর বাড়ির চারপাশ ঘিরে ফেলে প্রায় ৫০ জন পুলিশ কর্মী। তিনি দাবি করেন, যেখানেই তিনি যাচ্ছেন, তাঁকে ধাওয়া করা হচ্ছে এবং তাঁর গাড়ির পেছনে ৩-৪টি পুলিশের গাড়ি পাহারা দিচ্ছে। ইউটিউবারের কথায়, “আমাকে বলা হচ্ছে, কোনও আন্দোলনে নামলেই সঙ্গে সঙ্গে তুলে নেওয়া হবে। এটা হয়তো এক প্রকারের অঘোষিত গৃহবন্দি।”
পাশাপাশি, শনিবার যন্তর মন্তরের বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার আগে তাঁকে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেছেন ধ্রুব। তাঁর দাবি, “গত কাল সকাল ৭টা নাগাদ আমি বেডরুমে শুয়েছিলাম। হঠাৎ করেই প্রায় ২০ জন পুলিশকর্মী দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়েন। মায়ের চিৎকার শুনে আমি উঠতেই আমায় প্রায় কিডন্যাপ করা হয়। গুন্ডার মতো সিঁড়ি দিয়ে টেনেহিঁচড়ে হিঁচড়ে নিচে নামানো হয়, যেন আমি কোনও বড় অপরাধী। আমার ফোন কেড়ে নিয়ে প্রায় ২২ থেকে ২৩ ঘণ্টা আটকে রাখা হয়েছিল।”
নাগরিকত্ব বিতর্কের কড়া জবাব: তাঁর বিদেশি নাগরিকত্ব নিয়ে বিজেপি নেতার করা দাবির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন ধ্রুব রাঠি। বিজেপি নেতা ভাস্কর রাও অভিযোগ করেছিলেন যে, ধ্রুব একজন জার্মান নাগরিক এবং ভিনদেশি হয়ে তিনি কীভাবে ভারতীয় রাজনৈতিক আন্দোলনে অংশ নেন?
এই সমস্ত জল্পনা ও গুজব উড়িয়ে দিয়ে একটি ভিডিও বার্তায় নিজের ভারতীয় পাসপোর্ট সকলের সামনে তুলে ধরেন ধ্রুব। স্পষ্ট ভাষায় তিনি জানান, “আমি একজন ভারতীয় নাগরিক ছিলাম, আছি এবং থাকব। আমি বিদেশি নাগরিক বলে আন্দোলনে অংশ নিতে পারব না—এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। একজন ভারতীয় নাগরিক হিসেবে দেশের অন্য পাঁচজন মানুষের যে অধিকার রয়েছে, আমারও ঠিক সেটাই আছে।”
সব মিলিয়ে, কক্রোচ জনতা পার্টির (CJP) বিক্ষোভের প্রাক্কালে ধ্রুব রাঠিকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই রাজনৈতিক ও পুলিশি তৎপরতা এখন জাতীয় রাজনীতিতে বড় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।