প্রধান বিচারপতির সোজাসাপ্তা ‘না’! এসআইআর ও জ্ঞানেশ কুমার ইস্যুতে বিরাট ধাক্কা খেল ইন্ডিয়া জোট

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া বাতিল এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে দিল্লির রাজপথে নেমেছে ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোট। তবে এই মেগা আন্দোলনের শুরুতেই দেশের বিচারব্যবস্থার শীর্ষস্তর থেকে এল বড় ধাক্কা। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে স্মারক লিপি জমা দেওয়ার উদ্দেশ্যে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের সঙ্গে দেখা করার আবেদন জানিয়েছিল বিরোধী শিবির। কিন্তু সেই আবেদন সাফ খারিজ করে দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি।
প্রধান বিচারপতি কেন সাক্ষাৎ দিতে অস্বীকার করলেন?
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের স্পষ্ট বার্তা, যে বিষয়টি ইতিমধ্যেই আদালতের বিচারাধীন, সেই সংক্রান্ত স্মারকলিপি সরাসরি প্রধান বিচারপতির হাতে তুলে দেওয়া বা সাক্ষাৎ করার কোনো অবকাশ নেই। আইনি নিয়ম মেনে এই ধরনের দাবির ক্ষেত্রে যথাযথ পিটিশন বা আবেদন দাখিল করেই এগোতে হবে। বিচারপতির এই অনমনীয় অবস্থানে ইন্ডিয়া জোটের প্রথম দফার কৌশল বড়সড় হোঁচট খেয়েছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
দিল্লিতে মমতা, তেজস্বী ও অখিলেশদের পরবর্তী পদক্ষেপ
প্রধান বিচারপতির এই বার্তার পরেও দমে না গিয়ে নিজেদের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী রাজধানীতে অনড় রয়েছে বিরোধী শিবির। বর্তমানে দিল্লিতে উপস্থিত রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তেজস্বী যাদব এবং সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবসহ একাধিক শীর্ষস্থানীয় বিরোধী নেতা।
সিজেআই-এর সাক্ষাৎ না পাওয়ার পর বিরোধী জোটের পরবর্তী রণকৌশল কী হতে চলেছে, সে বিষয়ে এখন থেকেই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শুরু হয়েছে। আইনি পথেই এই লড়াইকে আরও তীব্র করার পাশাপাশি সংসদীয় ও রাজপথের আন্দোলনকে কীভাবে একসঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়, তা নিয়ে ছক কষছেন নেতারা। প্রধান বিচারপতির নির্দেশ মেনে আদালতের ভেতর আইনি লড়াই জোরদার করার পাশাপাশি নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনার দাবিতে দেশজুড়ে রাজনৈতিক চাপ বজায় রাখাই এখন ইন্ডিয়া জোটের প্রধান লক্ষ্য। রাজধানীর বুকে এই হাইভোল্টেজ রাজনৈতিক নাটক এবং সুপ্রিম কোর্ট চত্বরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ঘিরে তুঙ্গে রয়েছে উত্তেজনা।