ভোটের আগেই কলকাতায় ইডি-র মেগা রেড! চিটফান্ড কেলেঙ্কারিতে টালিগঞ্জ, শরৎ বোস রোড সহ ৮ জায়গায় তল্লাশি

মোটা টাকা রিটার্নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা তুলে প্রতারণা করার অভিযোগে ফের নড়েচড়ে বসল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। চিটফান্ডের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত টাকা তুলে সেই অর্থ নির্মাণ সংস্থা সহ বিভিন্ন ব্যবসায় খাটানোর অভিযোগে কলকাতার ৮টি ভিন্ন জায়গায় একযোগে তল্লাশি চালাচ্ছেন কেন্দ্রীয় এজেন্সির তদন্তকারীরা। এর আগে গত সেপ্টেম্বর মাসেও এই একই মামলায় কলকাতা ও ইন্দোর মিলিয়ে ১৭টি জায়গায় অভিযান চালিয়েছিল ইডি।

অমৃত গ্রুপ অফ কোম্পানিজের প্রতারণা চক্র
কেন্দ্রীয় এজেন্সি সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘অমৃত গ্রুপ অফ কোম্পানিজ’ নামের একটি চিটফান্ড সংস্থা চটকদার বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করে। কিন্তু সেই টাকা নির্দিষ্ট সময়ে ফেরত না দিয়ে উল্টে বড় অঙ্কের আর্থিক প্রতারণা করা হয়। তদন্তে নেমে ইডি জানতে পেরেছে, আমানতকারীদের সেই টাকা পরবর্তীতে বিভিন্ন রিয়েল এস্টেট, আবাসন নির্মাণ সংস্থা ও অন্যান্য ব্যবসায় লগ্নি করে সাদা করা হতো। গত সেপ্টেম্বর মাসের পর এদিনের এই নতুন অভিযান সেই আর্থিক যোগসূত্র এবং বেনামি বিনিয়োগের জাল আরও স্পষ্ট করতে সাহায্য করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

একাধিক হেভিওয়েট ব্যবসায়ীর বাড়ি ও প্রতিষ্ঠানে হানা
বুধবার সকাল থেকেই কলকাতার একাধিক মর্যাদাপূর্ণ এলাকায় তল্লাশি অভিযান শুরু করেন ইডি আধিকারিকরা। এর মধ্যে রয়েছে টালিগঞ্জ, শরৎ বোস রোড, সাদার্ন অ্যাভিনিউ, নেতাজিনগর, নারকেলডাঙা ও বেলেঘাটার মতো ব্যস্ত এলাকাগুলি।

সাদার্ন অ্যাভিনিউ ও শরৎ বোস রোড: এদিন সকালে সাদার্ন অ্যাভিনিউয়ে কে সি দুজারি (K.C. Dujari) নামে এক বিশিষ্ট ব্যবসায়ীর বাড়ি এবং শরৎ বোস রোডে তাঁর অফিসে হানা দেন তদন্তকারীরা। পাশাপাশি ‘স্বামী সন্তদাস ইনস্টিটিউট অব কালচার যৌগিক কলেজ’-এও তল্লাশি চালানো হয়। ইডি-র জোরালো অনুমান, এই কলেজের নেপথ্যে চিটফান্ডের অবৈধ টাকা বিনিয়োগ করা হয়ে থাকতে পারে।

নেতাজিনগর ও অন্যান্য এলাকা: নেতাজিনগরের ‘পারুল গার্ডেন’ বিল্ডিংয়ের বাসিন্দা ব্যবসায়ী কালী কিশোর বাগচির বাড়িতেও পৌঁছে যান ইডি আধিকারিকরা। জানা গিয়েছে, ওই বিল্ডিংটি তৈরি করেছিলেন কে সি দুজারি এবং সেখানে বড় অংকের টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন কালীকিশোর বাগচী। এছাড়া নারকেলডাঙার এক প্রোমোটার এবং বেলেঘাটার ব্যবসায়ী আব্দুল জব্বারের বাড়িতেও দিনভর তল্লাশি চলে।

কোথা থেকে ঠিক কত পরিমাণ টাকা তোলা হয়েছিল, সেই কালো টাকা কোন কোন লাভজনক ব্যবসায় লগ্নি করে সাদা করা হয়েছে—তার সুনির্দিষ্ট তথ্য ও নথি সংগ্রহ করতে মরিয়া তদন্তকারীরা। এদিনের এই মেগা অভিযানে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে খবর। শহরজুড়ে ইডি-র এই ধারাবাহিক কড়া পদক্ষেপে বড়সড় আর্থিক দুর্নীতি চক্রের আরও গভীরে পৌঁছানো সম্ভব হবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *