বল হাতে ফের আগুন ঝরালেন শামি! দিল্লিতে মহাপ্রলয় নামিয়ে নির্বাচকদের মুখে সপাটে জবাব বাংলার পেসারের

জাতীয় দলের বাইরে থাকলেও তাঁর হাতের ধার যে এতটুকু কমেনি, তা আরও একবার প্রমাণ করলেন অভিজ্ঞ তারকা পেসার মহম্মদ শামি। রঞ্জি ট্রফির প্রথম দিনের ম্যাচেই চেনা ছন্দে গর্জে উঠল তাঁর বলের গতি ও নিখুঁত সুইং। কল্যাণীতে গ্রুপ ‘সি’-র গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শামির আগুনে স্পেলে কার্যত আত্মসমর্পণ করল দিল্লি। তাঁর বিধ্বংসী চার উইকেটের সুবাদেই প্রথম ইনিংসে প্রতিপক্ষকে মাত্র ২৪০ রানে গুটিয়ে দিয়ে ম্যাচ সম্পূর্ণ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিল বাংলা।

দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় দলের স্কোয়াড থেকে ব্রাত্য থাকা শামির এই রুদ্রমূর্তি নির্বাচকদের উদ্দেশে এক স্পষ্ট ও কড়া বার্তা বলেই মনে করছে তামাম ক্রিকেট মহল।

কল্যাণীতে শামির স্পেল: এক নজরে পরিসংখ্যান

ঘরের মাঠ কল্যাণীতে টসে জিতে প্রথমে বোলিং করার সাহসী সিদ্ধান্ত নেন বাংলার অধিনায়ক অভিমন্যু ঈশ্বরণ। অধিনায়কের আস্থার পূর্ণ মর্যাদা দিয়ে শুরু থেকেই আগুন ঝরাতে শুরু করেন শামি:

  • ইকোনমি রেট মাত্র ১.৭১: ১৭.৩ ওভার বল করে ৯টি মেডেনসহ মাত্র ৩০ রান খরচ করে একাই তুলে নেন ৪টি মূল্যবান উইকেট।

  • দিল্লির মিডল ও লোয়ার অর্ডারে ধস: দিল্লির প্রধান ব্যাটার যশ ধুল (৯), সেট হয়ে যাওয়া আয়ুষ দোসেজা (৪৫), লড়াকু অর্ধশতরানকারী হৃতিক শোকিন (৫৬) এবং দিবিজ মেহরাকে সাজঘরের পথ দেখান তিনি।

অন্য বোলারদের নিখুঁত যুগলবন্দি

শামির পেস আক্রমণের পাশাপাশি বাংলার অন্যান্য বোলাররাও দিল্লির ওপর চাপ বজায় রাখেন:

  • অফ-স্পিনার আমির গনি ৪৫ রান খরচ করে গুরুত্বপূর্ণ ৩টি উইকেট দখল করেন।

  • পেসার আকাশ দীপ ৭৪ রানে ২ উইকেট নেন এবং মুকেশ কুমার তুলে নেন ১টি উইকেট।

  • সম্মিলিত বোলিংয়ের দাপটে ৭৭.৩ ওভারেই মাত্র ২৪০ রানে গুটিয়ে যায় দিল্লির প্রথম ইনিংস।

২০২৩ বিশ্বকাপের অন্যতম নায়ক প্রতি মরশুমে ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফর্ম করা সত্ত্বেও জাতীয় দলের দরজা তাঁর জন্য কেন বন্ধ, তা নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন দীর্ঘদিনের। কল্যাণীতে শামির এই বিধ্বংসী কামব্যাকের পর বিসিসিআই নির্বাচকরা এবার তাঁকে উপেক্ষা করতে পারেন কি না, সেদিকেই তাকিয়ে ক্রীড়াপ্রেমীরা।

Rick Sarkar
  • Rick Sarkar

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *