সোমবার সকালেই রাজধানীর রাজপথে মহাজোট! সোজা প্রধান বিচারপতির দরবারে ‘ইন্ডিয়া’র শীর্ষ নেতৃত্ব, চরম আলোড়ন

জাতীয় রাজনীতির ভরকেন্দ্র রাজধানী দিল্লিতে ফের এক মহানাটকীয় অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন নীতি, সাম্প্রতিক প্রশাসনিক পদক্ষেপ এবং বিরোধী দলগুলির ওপর কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির তৎপরতার অভিযোগে সোমবার ফের একজোট হয়ে রাজপথে নামছে বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোট। তবে কেবল পথ অবরোধ বা বিক্ষোভ প্রদর্শনই নয়, বিরোধীদের এবারের প্রধান লক্ষ্য দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সূত্রের খবর, রাজপথে শক্তি প্রদর্শনের পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির (CJI) সঙ্গে সাক্ষাৎ করে জরুরি স্মারকলিপি জমা দিতে পারেন বিরোধী জোটের শীর্ষ নেতারা।
সপ্তাহের প্রথম দিনেই বিরোধী শিবিরের এমন ঝাঁঝালো কর্মসূচির ঘোষণায় রাজধানীর প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে চড়েছে উত্তেজনার পারদ।
রাজপথ থেকে সুপ্রিম কোর্ট: বিরোধীদের মেগা রণকৌশল
বিরোধী শিবিরের অন্দরের খবর অনুযায়ী, সোমবারের এই কর্মসূচিতে তৃণমূল কংগ্রেস, কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, ডিএমকে, আম আদমি পার্টি এবং বাম দলসহ জোটের একাধিক শীর্ষ নেতৃত্ব ও সাংসদরা সামিল হতে চলেছেন।
-
রাজপথে প্রতিবাদ মিছিল: নির্দিষ্ট এলাকা থেকে শুরু হয়ে একযোগে সুসংগঠিত মিছিল করার পরিকল্পনা রয়েছে বিরোধীদের, যা রাজধানীর ট্রাফিকেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
-
প্রধান বিচারপতির দ্বারস্থ হওয়া: গণতন্ত্রের ওপর আঘাত, বিচারবিভাগীয় স্বাধীনতার সুরক্ষা এবং সাম্প্রতিক বিতর্কিত বিষয়গুলিতে হস্তক্ষেপ চেয়ে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করার সময় চেয়েছেন জোটের শীর্ষ প্রতিনিধিরা।
-
একজোট থাকার স্পষ্ট বার্তা: সংসদের ভেতরে ও বাইরে সরকারের ওপর সমানভাবে চাপ বজায় রাখতে এই কর্মসূচিকে বড় হাতিয়ার হিসেবে দেখছে বিরোধী নেতৃত্ব।
কড়া নজরদারিতে দিল্লি পুলিশ ও প্রশাসন
বিরোধী জোটের এমন বিশাল সমাবেশের ডাক আসতেই সতর্কবার্তা জারি করেছে দিল্লি পুলিশ। সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে বাড়ানো হয়েছে ব্যারিকেড ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা। যানজট মোকাবিলায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রুটে জারি করা হতে পারে ট্রাফিক বিধিনিষেধ। কোনো অবস্থাতেই যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটে, সে জন্য গোটা রাজধানীজুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ ও আধা-সামরিক বাহিনী মোতায়েনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
চলতি রাজনৈতিক সংঘাতের আবহে রাজপথের উত্তাপ কতটা সুপ্রিম কোর্টের দরজায় পৌঁছায় এবং প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বিরোধীদের এই বৈঠকের পর রাজনীতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ।