পুলিশ হেফাজতে চরম অত্যাচার? ভাইরাল ভিডিও প্রকাশ করে পরিবারের সমস্ত অভিযোগ ধুলোয় মিশিয়ে দিল দিল্লি পুলিশ!

পুলিশি হেফাজতে বন্দিদের উপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলে যখন রাজনৈতিক ও নাগরিক মহলে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, ঠিক তখনই সমস্ত অভিযোগ নস্যাৎ করে ময়দানে নামল দিল্লি পুলিশ। হেফাজতে থাকা অভিজিৎ ও দীপকের শারীরিক অবস্থা এবং তাঁদের সঙ্গে হওয়া আচরণ নিয়ে পরিবারের তোলা একাধিক গুরুতর অভিযোগ খারিজ করে থানার অন্দরের সিসিটিভি ও প্রাতিষ্ঠানিক ভিডিও প্রকাশ্যে আনল পুলিশ প্রশাসন।
ভিডিওটি সামনে আসার পর একদিকে যেমন তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে পুলিশের পাল্লা ভারী হয়েছে, তেমনই বন্দিদের নিরাপত্তা নিয়ে চলা জল্পনায় নতুন মোড় এসেছে।
পরিবারের অভিযোগ ও তৈরি হওয়া বিতর্ক
অভিজিৎ ও দীপককে দিল্লি পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার পরই পরিবারের পক্ষ থেকে একাধিক মারাত্মক দাবি তোলা হয়েছিল:
-
বন্দিদের কোনো আইনি সহায়তা পেতে দেওয়া হচ্ছে না এবং তাঁদের সঙ্গে চরম অমানবিক আচরণ করা হচ্ছে।
-
শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের জেরে তাঁদের শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন পরিবারের সদস্যরা।
-
মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে প্রশাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিল বিভিন্ন পক্ষ।
ভিডিও প্রকাশ করে দিল্লি পুলিশের জবাব
পরিবারের এই সমস্ত অভিযোগকে পুরোপুরি “ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” আখ্যা দিয়ে দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে একটি ভিডিও ফুটেজ সামনে আনা হয়। পুলিশের দেওয়া ব্যাখ্যা অনুযায়ী:
-
সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক: ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে যে হেফাজতে থাকা দু’জনই সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থায় রয়েছেন।
-
নিয়ম মেনেই দেখভাল: তাঁদের সঙ্গে কোনো প্রকার বলপ্রয়োগ বা দুর্ব্যবহার করা হয়নি, বরং আইনি প্রোটোকল মেনে খাবার ও চিকিৎসা নজরদারি নিশ্চিত করা হয়েছে।
-
স্বচ্ছতার বার্তা: দিল্লি পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকদের বক্তব্য, পুলিশের ভাবমূর্তি কালিমালিপ্ত করতে এবং তদন্তের দিক ঘোরাতেই এহেন মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছিল। নিরপেক্ষতা প্রমাণ করতেই নিয়ম মেনে এই ফুটেজ সামনে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পুলিশের এই পদক্ষেপের পর আপাতত নির্যাতনের অভিযোগের তীব্রতা অনেকটাই স্তিমিত। তবে পরিবারের তরফে এই ভিডিওর সময়কাল এবং পরিস্থিতি নিয়ে কোনো নতুন পাল্টা বয়ান আসে কি না, সেদিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।