নানা পাটেকরের মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা কাটল! ময়নাতদন্তের রিপোর্টে সামনে এলো হাড়হিম সত্যি, স্তব্ধ গোটা বলিউড

বলিউডের প্রবাদপ্রতিম ও জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকরের আকস্মিক প্রয়াণে এখনও গভীর শোকের ছায়া বিনোদন জগতে। তাঁর এই অপ্রত্যাশিত চলে যাওয়া নিয়ে অনুরাগীদের মনে যে উৎকণ্ঠা ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল, এবার তার অবসান ঘটল। চিকিৎসকদের ময়নাতদন্তের (Autopsy) চূড়ান্ত রিপোর্টে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, হৃদযন্ত্রের ধমনীতে মারাত্মক ব্লকেজের কারণে তীব্র হৃদরোগে (হৃদরোগজনিত জটিলতা বা হার্ট অ্যাটাক) আক্রান্ত হয়েই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন এই কিংবদন্তি অভিনেতা।
হাসপাতাল ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের এই রিপোর্টের পর অভিনেতার শারীরিক অসুস্থতা ও আকস্মিক মৃত্যুর কারণ নিয়ে সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটল।
ময়নাতদন্তের রিপোর্টে কী জানা গেল?
চিকিৎসকদের প্রাথমিক ও ময়নাতদন্তের বিস্তারিত রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে:
-
ধমনীতে গুরুতর ব্লকেজ: অভিনেতার হৃদযন্ত্রে রক্ত সরবরাহকারী প্রধান ধমনীগুলিতে গুরুতর ব্লকেজ ধরা পড়েছিল, যা রক্ত সঞ্চালনকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করেছিল।
-
ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাক: রক্ত চলাচলে ব্যাঘাত ঘটায় তিনি হঠাৎ তীব্র হার্ট অ্যাটাকের কবলে পড়েন এবং চিকিৎসার সুযোগ মেলার আগেই পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়।
-
অন্য কোনও অস্বাভাবিকতা নেই: শরীরে বিষক্রিয়া বা কোনওরকম অস্বাভাবিক আঘাতের চিহ্ন মেলেনি। স্বাভাবিক শারীরিক জটিলতা ও হৃদরোগজনিত কারণেই এই মর্মান্তিক পরিণতি হয়েছে বলে ফরেনসিক দল নিশ্চিত করেছে।
এক যুগের অবসান
কড়া ব্যক্তিত্ব, ডায়লগ ডেলিভারির নিজস্ব স্টাইল এবং সামাজিক অঙ্গীকারে ভরপুর চরিত্রের মধ্য দিয়ে ভারতীয় সিনেমার পর্দায় কয়েক দশক ধরে রাজত্ব করেছেন নানা পাটেকর। ‘ক্রান্তিবীর’, ‘পরিন্দা’, ‘তিরঙ্গা’ থেকে শুরু করে ‘ওয়েলকাম’ কিংবা মারাঠি ছবি ‘নটসম্রাট’—প্রতিটি চরিত্রেই তিনি নিজেকে অন্য এক উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন। শুধু পর্দায় নয়, বাস্তব জীবনেও কৃষকদের সহায়তায় তাঁর নাম ফাউন্ডেশনের সমাজসেবামূলক কাজ সাধারণ মানুষের মনে চিরস্থায়ী জায়গা করে নিয়েছিল।
তাঁর এই আকস্মিক বিদায়ে শোকস্তব্ধ গোটা বিনোদন দুনিয়া থেকে শুরু করে কোটি কোটি অনুরাগী। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসতেই প্রিয় অভিনেতার প্রয়াণে আরও একবার কান্নায় ভেঙে পড়েছেন তাঁর ভক্তরা।