“সংখ্যালঘুরা আর কারও কেনা গোলাম নয়!” হাইকোর্টের আইনজীবীর এক মন্তব্যে বর্ধমানে তোলপাড় বঙ্গ রাজনীতি

রাজ্যের আসন্ন নির্বাচনী আবহে সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলির চিরাচরিত সমীকরণকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন কলকাতা হাইকোর্টের এক বিশিষ্ট আইনজীবী। পূর্ব বর্ধমানে আয়োজিত এক সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন—সংখ্যালঘু সম্প্রদায় কোনও রাজনৈতিক দলের স্থায়ী সম্পদ বা ‘কেনা গোলাম’ নয়। নিজেদের অধিকার ও নাগরিক স্বার্থের প্রশ্নে এবার সচেতনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে।

পূর্ব বর্ধমানের মাটিতে দাঁড়িয়ে তাঁর এই ধারালো মন্তব্য রাজ্যের শাসক ও বিরোধী—উভয় শিবিরের অন্দরেই নতুন রাজনৈতিক জল্পনা তৈরি করেছে।

“প্রয়োজনে অধিকার ছিনিয়ে নিতে হবে”

আইনজীবী তাঁর বক্তব্যে তুলে ধরেন যে, স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন নির্বাচন এলেই সংখ্যালঘু সমাজকে কেবলমাত্র ভোট পাওয়ার হাতিয়ার বা নিশ্চিত ‘ভোটব্যাঙ্ক’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে তাদের সামাজিক উন্নয়ন, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের স্থায়ী পরিকাঠামো কতটা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে আত্মসমালোচনার প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি বলেন:

“সংখ্যালঘু মানুষরা কারও কেনা গোলাম নয় যে চোখ বন্ধ করে আজীবন একটি নির্দিষ্ট দলকে সমর্থন জুগিয়ে যাবে। রাজনৈতিক দলগুলিকে বুঝতে হবে, ভোটের রাজনীতি আর মানুষের অধিকার রক্ষা এক জিনিস নয়। অধিকার কেউ দয়া করে দেয় না, তা সংবিধানসম্মতভাবে আদায় করে নিতে হয়।”

রাজনৈতিক দলগুলির উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা

বক্তব্যে শাসক তৃণমূল কংগ্রেসের পাশাপাশি বাম ও কংগ্রেসের ভূমিকা নিয়েও পরোক্ষভাবে সমালোচনা করেন তিনি। তিনি স্পষ্ট করেন, কেবল আশ্বাসে আর কাজ হবে না। যে দল বাস্তব ক্ষেত্রে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা, সাংবিধানিক অধিকার এবং আর্থিক স্বনির্ভরতার পথ নিশ্চিত করবে, মানুষ তাদের পক্ষেই অবস্থান নেবে।

উত্তপ্ত পূর্ব বর্ধমানের রাজনীতি

উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তিনি সমাজের তরুণ প্রজন্মকে শিক্ষা ও আইনি অধিকার বিষয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজ্যে পঞ্চায়েত ও পুরভোটের পরবর্তী পর্ব এবং আসন্ন বিধানসভা সমীকরণের আবহে সংখ্যালঘু সমাজের অন্দর থেকে ওঠা এই ধরনের স্বর বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। ভোটের অঙ্কে এই বার্তা কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর কাটাছেঁড়া।

Rick Sarkar
  • Rick Sarkar

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *