এক দেশে দুই নিয়ম কেন? দিল্লির রাজপথে পুলিশি তাণ্ডব দেখে মেজাজ হারালেন ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী

মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের অপসারণের দাবিকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজধানী দিল্লির রাজপথে আন্দোলনকারীদের ওপর দিল্লি পুলিশের লাগাতার ধরপাকড়, লাঠিচার্জ ও আটকের ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের আবহ তৈরি হয়েছে। এবার সেই আগুনে ঘৃতাহুতি দিয়ে পুলিশের ভূমিকা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুললেন ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বর্ষীয়ান বামপন্থী নেতা মানিক সরকার। রাজধানীর বুকে সাধারণ ছাত্র-যুব ও রাজনৈতিক কর্মী-সমর্থকদের গণতান্ত্রিক কণ্ঠরোধের চেষ্টার বিরুদ্ধে চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছেন তিনি।
দিল্লির যন্তরমন্তর, রামকৃষ্ণ আশ্রম মার্গ এবং সংলগ্ন চত্বরে অনুমতি না থাকার অজুহাতে যেভাবে বিরোধী সাংসদ, ছাত্রনেতা ও সাধারণ প্রতিবাদীদের ওপর চড়াও হয়েছে পুলিশ প্রশাসন, তার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এই প্রবীণ জননেতা।
“সব জায়গায় তো একই পুলিশ থাকে না”
পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা ও আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে মানিক সরকার মন্তব্য করেন:
“যেভাবে সাধারণ মানুষের সাংবিধানিক প্রতিবাদের অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে এবং নির্বিচারে আটক করা হচ্ছে, তা চরম নিন্দনীয়। অথচ অন্যান্য জায়গায় যখন নিয়মভঙ্গ বা বেআইনি জমায়েত হয়, তখন কিন্তু প্রশাসনের এই অতিসক্রিয়তা চোখে পড়ে না। সব জায়গায় কি তবে এক পুলিশ থাকে না? আইন কি একেক জনের ক্ষেত্রে একেক রকম?”
তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, গণতান্ত্রিক দেশে কোনো নাগরিক বা বিরোধী সংগঠনের শান্তিপূর্ণ পথে দাবি জানানোর অধিকার সংবিধান স্বীকৃত। কিন্তু রাজধানীতে যেভাবে পুরো এলাকা সিল করে, ব্যারিকেড গড়ে এবং ১৪৪ বা ১৩৩ ধারার অজুহাত দেখিয়ে আন্দোলন দমন করা হচ্ছে, তা অত্যন্ত বিপজ্জনক ইঙ্গিতবাহী।
বিরোধীদের ওপর দমনপীড়নের প্রতিবাদে দেশজোড়া ক্ষোভ
উল্লেখ্য, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অধীনে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় ব্যাপক কারচুপির অভিযোগে দিল্লিতে বড় মাপের বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল বিরোধী দলগুলি ও বিভিন্ন ছাত্র-যুব সংগঠন। তবে কর্মসূচি শুরু হওয়ার আগেই প্রায় শয়ে শয়ে আন্দোলনকারীকে আটক করে পুলিশ।
বিমান বসু, প্রশান্ত ভূষণের পর এবার মানিক সরকারের মতো শীর্ষ স্তরের নেতৃত্বের এই ধারালো আক্রমণ বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, দিল্লির এই পুলিশি পদক্ষেপ কেবল জাতীয় স্তরে সীমাবদ্ধ থাকছে না; বরং কেন্দ্র সরকার ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধীদের ক্ষোভের আগুন গোটা দেশে এক বৃহত্তর রাজনৈতিক রূপ নিতে চলেছে।