“ইন্দিরা গান্ধীর জরুরি অবস্থাকেও হার মানিয়েছে!” দিল্লি পুলিশের খাঁচামুক্ত হতেই মোদী সরকারকে চরম আক্রমণ সিজেপি নেতাদের

“জরুরি অবস্থাকেও হার মানিয়েছে বর্তমান পরিস্থিতি!” জামিন পেয়েই কেন্দ্রকে তুলোধনা ককরোচ জনতা পার্টির
প্রায় চব্বিশ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস পুলিশি টানাপোড়েন ও হেফাজত থেকে জামিনে মুক্তি পেতেই কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। দিল্লিতে আয়োজিত এক জরুরি সাংবাদিক বৈঠকে দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব দাবি করেন, দেশে অঘোষিত স্বৈরাচার চলছে এবং প্রতিবাদের কণ্ঠরোধ করার জন্য বর্তমান প্রশাসন ইন্দিরা গান্ধীর জমানার ঐতিহাসিক জরুরি অবস্থাকেও ছাপিয়ে গিয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের বিশেষ প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রাজধানীতে এক বিশাল বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল এই রাজনৈতিক সংগঠনটি। কিন্তু প্রতিবাদ শুরুর আগেই বিমানবন্দর ও শহরের একাধিক প্রান্ত থেকে প্রায় শতাধিক নেতাকর্মীকে আটক করে পুলিশ।
“বিমান থেকে নেমেই লকআপ!”
সাংবাদিক বৈঠকে দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে এবং সৌরভ দাস অভিযোগ করেন, গণতান্ত্রিক দেশে শান্তিপূর্ণভাবে সমবেত হওয়া ও মতামত প্রকাশ করার মৌলিক অধিকারটুকুও কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। মুম্বই থেকে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান অবতরণ করা মাত্রই নাটকীয়ভাবে দিল্লি পুলিশ বিমানের ভিতরে ঢুকে তাঁদের কার্যত ছিনিয়ে নিয়ে যায়। কেন তাঁদের আটক করা হলো, কোন আইনি ধারায় নোটিস পাঠানো হলো—তা স্পষ্ট করার আগেই প্রিজন ভ্যানে তোলা হয়।
সিজেপি নেতৃত্বের দাবি, শুধু তাঁরা নন, রবিবার যন্তরমন্তর ও কনট প্লেস চত্বরে জমায়েতের উদ্দেশ্যে আসা সাধারণ ছাত্র, যুব ও সমাজকর্মীদের ওপর নির্বিচারে বলপ্রয়োগ করেছে পুলিশ। এমনকি মহিলাদের হেনস্থা করার অভিযোগও তোলা হয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে।
জরুরি অবস্থার সঙ্গে তুলনা
সাংবাদিক সম্মেলনে নেতাদের ক্ষোভ— “১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার সময়ও হয়তো নাগরিকদের এমন দমনপীড়নের মুখে পড়তে হয়নি। আজ কোনো এফআইআর ছাড়া, কোনো আগাম বার্তা ছাড়া নাগরিকদের পথ থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে কেবল এই অপরাধে যে তাঁরা নির্বাচন কমিশনের অস্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন!” তাঁদের মতে, এই ঘটনা স্পষ্ট করে দেয় যে বর্তমান শাসকদল জনরোষের ভয়ে কতটা সন্ত্রস্ত।
পিছু হঠতে নারাজ নেতৃত্ব
আদালত থেকে শর্তসাপেক্ষে জামিন মিললেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে অনড় ককরোচ জনতা পার্টি। নেতাদের স্পষ্ট বার্তা:
-
সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা ও স্বচ্ছ নির্বাচনের দাবিতে তাঁদের লড়াই জারি থাকবে।
-
পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবহার করে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন স্তব্ধ করা যাবে না।
-
দিল্লির বুকে যে ‘স্বৈরাচারী রূপ’ দেখা গেল, তা গোটা দেশের মানুষের সামনে তুলে ধরা হবে।
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও সিজেপি নেতাদের এই গণগ্রেফতারি পর্বকে ঘিরে রবিবার দিনভর উত্তাল রাজধানী। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামিন মেলার পর সিজেপির এই আগ্রাসী অবস্থান জাতীয় রাজনীতিতে নতুন সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে।