“এত বড় ভীতু দেশ আগে দেখেনি!” পুলিশি হেফাজত থেকে বেরিয়েই কেন্দ্রকে চরম চ্যালেঞ্জ অভিজিৎ দিপকের

দিল্লি পুলিশের দীর্ঘ টানাপোড়েন ও প্রায় ২৪ ঘণ্টার হেফাজত থেকে মুক্তি পেয়েই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্র সরকারকে সরাসরি নিশানা করলেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (CJP) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। দিল্লির আদালত থেকে জামিন মেলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। নরেন্দ্র মোদীকে সরাসরি ‘ভীতু’ ও ‘স্বৈরাচারী’ আখ্যা দিয়ে দিপকের হুংকার— “১০ অক্টোবর তারিখটি ভারতীয় ইতিহাসে স্বৈরতন্ত্রের পতনের সূচনা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।”

বিমানবন্দর থেকে নাটকীয় আটক ও গ্রেফতার

ঘটনার সূত্রপাত শনিবার। নির্বাচন কমিশনের বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া (SIR)-য় একাধিক অসঙ্গতির অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে এক বৃহৎ বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’।

মুম্বই থেকে বিমান দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করা মাত্রই নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। দিল্লি পুলিশের একটি দল সরাসরি বিমানের ভিতরে ঢুকে অভিজিৎ দিপকে, আশুতোষ রাঙ্কা এবং সৌরভ দাসকে আটক করে। পরে তাঁদের আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করা হয়। সেই সঙ্গে বিক্ষোভ বানচাল করতে মধ্য দিল্লির কনট প্লেস ও যন্তরমন্তর চত্বরে জারি করা হয় কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনী এবং প্রায় শতাধিক বিক্ষোভকারীকে পাকড়াও করে পুলিশ।

আদালতের শর্ত ও মুক্তি

রবিবার দিল্লির একটি আদালত অবশেষে দিপকে-সহ তিন সিজেপি নেতাকে জামিনে মুক্তির নির্দেশ দেয়। তবে আদালত শর্ত দিয়েছে, আগামী এক বছর শান্তি বিঘ্নিত হতে পারে বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে এমন কোনও ধরনের কর্মসূচিতে তাঁরা অংশ নিতে পারবেন না।

জেল থেকে বেরিয়েই কেন্দ্রকে চাঁচাছোলা আক্রমণ

আদালত থেকে রেহাই মিললেও নিজেদের অবস্থান থেকে একচুলও নড়তে নারাজ সিজেপি নেতৃত্ব। হেফাজত থেকে ছাড়া পেয়েই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) ঝড় তোলেন অভিজিৎ দিপকে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন:

“প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদী ভারতের জন্য চরম অস্বস্তির কারণ। এই দেশ তাঁর চেয়ে বড় ভীতু ও পরপীড়ক শাসক আগে কখনও দেখেনি।”

পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন যে, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে রাষ্ট্রযন্ত্র দিয়ে স্তব্ধ করা যাবে না এবং ‘আরশোলারা সহজে শেষ হয়ে যায় না’।

পরিবার ও পুলিশের চাপানউতোর

এদিকে এই আটকের ঘটনায় চরম মানবিক টানাপোড়েনও প্রকাশ্যে আসে। পুলিশি হেফাজতে থাকাকালীনই মহারাষ্ট্রের হিঙ্গোলিতে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন দিপকের ৮৫ বছর বয়সি ঠাকুরমা সাবিত্রীবাই দিপকে। দিপকের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়, পুলিশ পরিকল্পিতভাবে যোগাযোগের পথ বন্ধ করে রেখেছিল, ফলে তিনি শেষকৃত্যে পৌঁছাতে পারেননি। পাল্টা ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করে দিল্লি পুলিশ দাবি করে, তারা অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সঙ্গে দিপকেকে এই খবর জানিয়েছিল এবং তাঁর বাড়ি যাওয়ার যাবতীয় ব্যবস্থা করে দিতে চেয়েছিল, তবে দিপকে নিজেই সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেননি।

সব মিলিয়ে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবি ও সিজেপি নেতাদের এই গ্রেফতারি পর্ব ঘিরে রবিবারও জাতীয় রাজধানীর রাজনৈতিক পারদ চরম উত্তপ্ত রইল।

Rick Sarkar
  • Rick Sarkar

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *