দেশে কি তবে ‘অঘোষিত জরুরি অবস্থা’ চলছে? দিল্লির ধরপাকড় নিয়ে সরাসরি প্রধান বিচারপতির দ্বারস্থ হচ্ছেন খাড়্গে-রাহুল

‘অঘোষিত জরুরি অবস্থা’ চলছে দেশে! দিল্লির প্রতিবাদে পুলিশের নির্মম দমনপীড়নের বিরুদ্ধে সোমে প্রধান বিচারপতির দ্বারস্থ খাড়্গে-রাহুল
রাজধানী দিল্লিতে যুব সমাজের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ মিছিলে পুলিশের নির্মম দমনপীড়ন এবং একাধিক শীর্ষ বিরোধী নেতাকে আটক করার ঘটনায় কেন্দ্রের বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ তুলল কংগ্রেস। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের সাফ দাবি, দেশে এখন পুরোদমে ‘অঘোষিত জরুরি অবস্থা’ চলছে। এই পরিস্থিতিতে দিল্লিতে পুলিশের তাণ্ডব এবং গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের প্রতিবাদে সোমবার বিকেলে ভারতের প্রধান বিচারপতির (CJI) সঙ্গে দেখা করতে চলেছেন বিরোধী শিবিরের শীর্ষ নেতারা।
শনিবার রাজধানীর বুকে ভোটার তালিকায় কারচুপি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে এক বিশাল নাগরিক প্রতিবাদের ডাক দিয়েছিল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। সেই আন্দোলনকে ঘিরে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। প্রতিবাদ স্তব্ধ করতে গোটা মধ্য দিল্লিকে কার্যত দুর্গে পরিণত করে প্রশাসন। বেশ কিছু এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি রাস্তায় নামানো হয় হাজার হাজার পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।
শনিবারের এই তুলকালাম পরিস্থিতিতে প্রায় আড়াই হাজার মানুষকে পুলিশ আটক করে। তার মধ্যে ছিলেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। আন্দোলনস্থলে পৌঁছনোর আগেই নেতৃত্বকে স্তব্ধ করে দেওয়ার জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। যদিও দিল্লি পুলিশ একে আইনশৃঙ্খলার স্বার্থে আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ বলেই দাবি করেছে।
তবে এই দমনপীড়নের আঁচ এসে পড়ে দেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলির ওপরও। আন্দোলনস্থল ও তার আশেপাশের এলাকা থেকে একে একে আটক হন একাধিক হেভিওয়েট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। অরবিন্দ কেজরিওয়াল সহ বিভিন্ন রাজ্যের বিশিষ্ট রাজনৈতিক নেতাদের আটক করার পর থেকেই বিরোধীরা সংঘবদ্ধভাবে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন।
রবিবার এক সংবাদ সম্মেলনে মল্লিকার্জুন খাড়্গে পুলিশের এই বিশাল নিরাপত্তার বহর ও ধরপাকড়ের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি পরিসংখ্যান দিয়ে বলেন, শুধুমাত্র পরিস্থিতি দমন করতে বিপুল সংখ্যক দিল্লি পুলিশ ও সিআরপিএফ জওয়ান মোতায়েন করা হয়েছিল, যা স্পষ্ট করে দেয় সাধারণ যুবকদের এই আন্দোলন দেখে সরকার কতটা ভীত।
এই পুরো ঘটনায় গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে অভিযোগ তুলে এবার সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে দরবার করতে চলেছে বিরোধী শিবির। মল্লিকার্জুন খাড়্গে এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ইতিমধ্যেই সিজেআই-কে চিঠি পাঠিয়েছেন এবং সোমবার বিকেলে এই বিষয়ে সাক্ষাতের সময় চেয়েছেন। আদালতের হস্তক্ষেপে এই পরিস্থিতি কোন মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।