ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম আসার আগের সেই নস্ট্যালজিয়া! ১২ বছর পর কি সত্যিই আবার ফিরছে আপনাদের প্রিয় ‘অরকুট’?

ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম বা আজকের রিলস সংস্কৃতির রমরমা শুরু হওয়ার বহু আগে ইন্টারনেটের আদি যুগে অনলাইন বন্ধুত্বের আসল স্বাদ যারা পেয়েছিলেন, তাঁদের কাছে ‘অরকুট’ (Orkut) নামটা নিছক কোনো সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ছিল না—এটি ছিল এক গভীর আবেগ। গুগলের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার অর্কুট বুয়ুককোকতেনের হাত ধরে ২০০৪ সালে তৈরি এই প্ল্যাটফর্মটি একসময় ভারত ও ব্রাজিলের তরুণ প্রজন্মের হৃদয়ে ঝড় তুলেছিল। সাইবার ক্যাফেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়ে বন্ধুদের প্রোফাইলে স্ক্র্যাপ লেখা, টেস্টমোনিয়াল দেওয়া কিংবা প্রিয় বিষয়ের কমিউনিটিতে আড্ডা দেওয়ার সেই সোনালী দিনগুলি আজও বহু মানুষের মনে অমলিন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ফেসবুকের উত্থান এবং গুগলের নীতি বদলের কারণে ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে চিরতরে বন্ধ হয়ে যায় জনপ্রিয় এই সোশ্যাল নেটওয়ার্কটি।
তবে প্রায় এক দশকেরও বেশি সময় পর সেই পুরনো নস্ট্যালজিয়াকে ফের উসকে দিয়ে জোরদার জল্পনা শুরু হয়েছে টেক দুনিয়ায়। বর্তমানের সোশ্যাল মিডিয়ায় এআই (AI) বট, ডিপফেক ছবি এবং লাইক-কমেন্টের অন্তহীন প্রতিযোগিতায় মানুষের আসল সংযোগ হারিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বয়ং প্রতিষ্ঠাতা অর্কুট বুয়ুককোকতেন। তিনি একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার চালিয়ে একটি নতুন ও মানব-কেন্দ্রিক সোশ্যাল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার জন্য ব্যবহারকারীদের সমর্থন চেয়েছেন। তাঁর উদ্দেশ্য এমন একটি ডিজিটাল মাধ্যম তৈরি করা, যেখানে অ্যালগরিদমের মারপ্যাঁচ নয়, বরং প্রকৃত বন্ধুত্ব, বিশ্বাস এবং মানুষের সঙ্গে মানুষের আন্তরিক যোগাযোগই হবে প্রধান অগ্রাধিকার।
যদিও সংস্থার পক্ষ থেকে পরিষ্কার করে জানানো হয়েছে যে হুবহু পুরনো অরকুট বা আগের অ্যাকাউন্টগুলি সরাসরি চালু হচ্ছে না, তবে এই নতুন উদ্যোগকে ঘিরে ইতিমধ্যেই বিশ্বের ১১৫টি দেশের লক্ষাধিক মানুষ সমর্থন জানিয়েছেন। ইন্টারনেটের আদি যুগের সেই খাঁটি বন্ধুত্বের দিনগুলি কি তবে সত্যিই নতুন কোনো অবয়বে ফিরে আসতে চলেছে? টেকপ্রেমী থেকে শুরু করে মিলেনিয়াল প্রজন্মের মনে এখন একটাই প্রশ্ন ঘোরাফেরা করছে।