“আমি গ্রেফতার হলে…?”-গ্রেফ্তারির আগেই মাস্টারস্ট্রোক CJP প্রধানের, কে এই রহস্যময় অজিঙ্কা?

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র যন্তর মন্তর অভিযান শুরুর আগেই দিল্লি পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে আটক হন দলীয় প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে সহ শীর্ষ নেতৃত্ব। তবে পুলিশি ধরপাকড় যে আগে থেকেই আন্দাজ করা হয়েছিল, তা স্পষ্ট হয়ে গেল অভিজিতের একটি প্রি-রেকর্ডড ভিডিও বার্তার মাধ্যমে। পুলিশ তাঁকে বিমান থেকে নামানোর আগেই দলের হাল ধরার জন্য মহারাষ্ট্রের তরুণ তুর্কি অজিঙ্কা শিন্ডের নাম ঘোষণা করে এক মাস্টারস্ট্রোক দিলেন সিজেপি প্রধান।

আগে থেকেই তৈরি ছিল ‘প্ল্যান বি’

শনিবার সকালেই CJP-র অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডল থেকে একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। সেখানে বন্দি হওয়ার আগেই অভিজিৎ দীপকে পরিষ্কার জানিয়ে দেন, “আপনারা যদি এই ভিডিও দেখেন, তার মানে আমি, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা গ্রেপ্তার হয়ে গিয়েছি। আমাদের অবর্তমানে অজিঙ্কা CJP আন্দোলনে নেতৃত্ব দেবে। ওঁকে অনুসরণ করুন।” জানা গেছে, পুলিশি গ্রেফতারির আশঙ্কা করেই শুক্রবার রাতেই ওই বিশেষ ভিডিওটি রেকর্ড করে রেখেছিলেন অভিজিৎ।

কে এই অজিঙ্কা শিন্ডে?

মহারাষ্ট্রের বাসিন্দা, বছর পঁয়ত্রিশের অজিঙ্কা শিন্ডে কম্পিউটার সায়েন্সে গ্র্যাজুয়েট। পুনের একটি বহুজাতিক আইটি (IT) ফার্মের লোভনীয় চাকরি ছেড়ে তিনি পুরোপুরি রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। তাঁর বাবা-মা মূলত আলিবাগের কৃষক হলেও পরবর্তী সময়ে লাতুরে চলে আসেন।

রাজনীতিতে অজিঙ্কার পথচলা শুরু হয়েছিল ‘আম আদমি পার্টি’ (AAP)-র হাত ধরে। ২০১৬ সালে গোয়াতে প্রথম অভিজিৎ দীপকের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয় এবং তখন থেকেই তাঁরা একসঙ্গে কাজ করছেন। গোয়া ও মহারাষ্ট্রে আপ-এর হয়ে নির্বাচন পরিচালনা, সোশ্যাল মিডিয়া কোঅর্ডিনেটর এবং যুব সংগঠনের গুরুদায়িত্বও সফলভাবে সামলেছেন তিনি।

অজিঙ্ক শিন্ডে

CJP-র অন্দরে উত্থান ও বর্তমান পরিস্থিতি

গত অগস্ট মাসেই অজিঙ্কাকে নিজের দলে টেনে নেন অভিজিৎ দীপকে। তাঁকে CJP-র ‘ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ইন-চার্জ’-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়। সংগঠনের সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কার ঠিক পরেই ক্ষমতার চাবিকাঠি এখন রয়েছে এই আইটি প্রাক্তনী অজিঙ্কা শিন্ডের হাতেই।

শীর্ষ নেতারা পুলিশের জালে বন্দি হওয়ার পর অজিঙ্কা কীভাবে এই হাই-ভোল্টেজ ‘এসআইআর’ (SIR) বিরোধী আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যান এবং দিল্লি পুলিশ তাঁকে কতটা বেগ দেয়, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *