‘পুলিশি সাঁড়াশি অভিযানেও দমানো গেল না!’-দিল্লির আন্দোলন নিয়ে মুখ খুলল বিবিসি-নিউ ইয়র্ক টাইমস

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র যন্তর মন্তর অভিযানকে কেন্দ্র করে শনিবার দিনভর রণক্ষেত্রের রূপ নেয় রাজধানী দিল্লি। দিল্লি পুলিশের নজিরবিহীন সাঁড়াশি অভিযানে অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কা সহ প্রায় দু’হাজারেরও বেশি প্রতিবাদী আটক হয়েছেন। তবে শুধু দেশীয় রাজনীতিই নয়, দিল্লির এই মেগা প্রটেস্ট এবং পুলিশের কঠোর দমনপীড়নের ঘটনা এখন আন্তর্জাতিক মিডিয়ার শিরোনামে উঠে এসেছে, যা নিয়ে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র চর্চা।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের কড়া নজরে দিল্লির বিক্ষোভ

শনিবারের এই গোটা কর্মসূচির ওপর শুরু থেকেই তীক্ষ্ণ নজর রেখেছে বিশ্বের প্রথমসারির সমস্ত বিদেশি সংবাদমাধ্যম। লাগাতার লাইভ আপডেট ও রিপোর্টের মাধ্যমে রাজধানীর উত্তাল পরিস্থিতি তুলে ধরা হচ্ছে বিশ্ববাসীর সামনে।

  • দ্য গার্ডিয়ান (ব্রিটেন): ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমটি ‘Police clamp down on Delhi protest and detain ‘Cockroach’ movement leader’ শিরোনামে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে ভোটার স্বচ্ছতা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি এই আন্দোলন কীভাবে কেন্দ্র সরকারের কাছে এক বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, তা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

  • ডয়েচ ভেল (জার্মানি): ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR) নিয়ে চলা যাবতীয় বিতর্ক এবং জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবির নেপথ্যের কারণগুলি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছে এই জার্মান সংবাদমাধ্যমটি।

  • আল জাজিরা (কাতার): দিল্লির বিক্ষোভ দমনে পুলিশের আক্রমণাত্মক অভিযান, আন্দোলনকারীদের ব্যাপকহারে আটক, মেট্রো পরিষেবায় কড়া বিধিনিষেধ এবং ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার মতো বিষয়গুলি নিয়ে লাইভ ব্লগ চালিয়ে যাচ্ছে আল জাজিরা।

এছাড়াও দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস, বিবিসি, রয়টার্স, ফ্রান্স ২৪ এবং এএফপির মতো বিশ্বখ্যাত সংবাদমাধ্যমগুলিও রাজধানী জুড়ে চলা ব্যাপক নিরাপত্তা বেষ্টনী ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের খবর ফলাও করে প্রকাশ করেছে।

ককরোচ পার্টির অর্থের উৎস নিয়ে দানা বাঁধছে রহস্য

এদিকে আন্দোলন যত তীব্র হচ্ছে, ততই প্রকাশ্যে আসছে নতুন নতুন বিতর্ক। ককরোচদের এই বিপুল বিক্ষোভের পেছনে ঠিক কে বা কারা অর্থ জোগাচ্ছে, তা নিয়ে ইতিমধ্যে প্রশ্ন তুলেছে বেশ কিছু পক্ষ। সূত্রের খবর, এই বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে নির্বাচন কমিশন সহ সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জমা দিয়েছেন কয়েকজন আরটিআই কর্মী।

যদিও এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে CJP-র সাফ দাবি, তাদের সংগঠন কোনো প্রথাগত রাজনৈতিক দল নয় এবং তাদের পেছনে কোনো বড় কর্পোরেট স্পনসরও নেই। সম্পূর্ণ সাধারণ মানুষের ছোট ছোট অনুদানের ও দানেই এই আন্দোলন পরিচালিত হচ্ছে বলে অতীতে একাধিকবার স্পষ্ট করেছিলেন পার্টি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং মুখপাত্র সৌরভ দাস। দেশজুড়ে রাজনৈতিক কোন্দল আর আন্তর্জাতিক প্রচারের জেরে এই মুহূর্তে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে CJP-র এই আন্দোলন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *