২৪ ঘণ্টার আগেই শেষ হচ্ছে দিন! চোখের পলকে পৃথিবীর ঘূর্ণন বেড়ে যাওয়ায় বিজ্ঞানীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ

পৃথিবীর একদিন বলতে আমরা সাধারণত ২৪ ঘণ্টাকেই বুঝি। কিন্তু সম্প্রতি বিজ্ঞানীদের গবেষণায় সামনে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। দেখা যাচ্ছে, পৃথিবীর ঘূর্ণনের গতি সবসময় এক রকম থাকে না; বরং মাঝে মাঝে নিজের অক্ষের চারদিকে স্বাভাবিকের তুলনায় সামান্য দ্রুত ঘুরতে শুরু করে আমাদের এই নীলগ্রহ। এর ফলে একটি দিনের দৈর্ঘ্য ২৪ ঘণ্টার তুলনায় কয়েক মিলিসেকেন্ড পর্যন্ত কম হতে পারে, যা আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির দুনিয়ায় নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিজ্ঞানীদের পরিমাপ অনুযায়ী, অতীতে একাধিক দিনে পৃথিবী স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশ কিছুটা কম সময় নিয়ে একপাক ঘুরেছে। কিন্তু প্রশ্ন হল, হঠাৎ কেন পৃথিবীর ঘূর্ণনের গতি এতটা বেড়ে গেল? এই রহস্যের খোঁজে নেমে গবেষকরা একাধিক সম্ভাব্য কারণের কথা জানিয়েছেন। তাঁদের একাংশের মতে, মেরু অঞ্চলের বরফ গলে যাওয়া এবং পুনরায় জমে যাওয়ার মতো প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া পৃথিবীর ভরের বণ্টনে বড়সড় পরিবর্তন ঘটাতে পারে, যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ে গ্রহের ঘূর্ণন গতির ওপর। এছাড়া অতীতে ভারত মহাসাগরের মতো বড় বড় প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্প বা সুনামিও পৃথিবীর ভরের ভারসাম্য কিছুটা বদলে দিয়েছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
অন্যদিকে, দীর্ঘমেয়াদি হিসাব বলছে, কোটি কোটি বছর আগে পৃথিবীর একটি দিন এখনকার তুলনায় অনেক ছোট ছিল। চাঁদের মহাকর্ষীয় আকর্ষণ এবং জোয়ার-ভাটার ঘর্ষণের ফলেই মূলত কোটি কোটি বছর ধরে পৃথিবীর ঘূর্ণন ধীরে ধীরে শ্লথ হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক এই স্বল্পমেয়াদি দ্রুত ঘূর্ণন এবং বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের জটিল সমীকরণ বিজ্ঞানীদের ভাবিয়ে তুলেছে। পরমাণু ঘড়ির সময়ের সঙ্গে পৃথিবীর এই গতিশীল পরিবর্তনের সামঞ্জস্য বজায় রাখতে গিয়ে আগামী দিনে প্রযুক্তিগত নানা বড় সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।