CJP-বিক্ষোভে অভিনেতা ইমরান খান, প্রকাশ রাজ প্রিজনভ্যানে তুলল পুলিশ

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শনিবার দিনভর রণক্ষেত্রের রূপ নিল দিল্লি ও মুম্বই। যন্তর মন্তর অভিযান এবং মুম্বইয়ের অগাস্ট ক্রান্তি ময়দানের বিক্ষোভ ঘিরে নজিরবিহীন ধরপাকড় চালাল পুলিশ। দিল্লি ও মুম্বই মিলিয়ে রাজনৈতিক নেতা, ছাত্রনেতা থেকে শুরু করে একাধিক হেভিওয়েট ব্যক্তিত্ব ও বলিউড তারকাদের আটকের ঘটনায় গোটা দেশে তীব্র রাজনৈতিক শোরগোল পড়ে গেছে।
মুম্বইয়ে বলিউড তারকাদের পদযাত্রা ও গ্রেফতারি
সাধারণত রাজনৈতিক বা সামাজিক প্রতিবাদ মিছিলে বলিউড তারকাদের সশরীরে অংশ নিতে খুব একটা দেখা যায় না। তবে এদিন ব্যতিক্রমী ভূমিকা নিয়ে মুম্বইয়ের ঐতিহাসিক অগাস্ট ক্রান্তি ময়দানের বিক্ষোভে সামিল হন জনপ্রিয় অভিনেতা ইমরান খান ও প্রকাশ রাজ। CJP-এর এই আন্দোলনকে সমর্থন জানাতে বিনা অনুমতিতে আয়োজিত ওই জমায়েত থেকে তাঁদের আটক করে মুম্বই পুলিশ।
পাশাপাশি, মহাত্মা গান্ধীর প্রপৌত্র তুষার গান্ধীর নেতৃত্বাধীন সংগঠন ‘হাম ভারত কে লোগ’-এর সদস্য এবং সিপিআইএম সমর্থকদের নিয়ে গড়া ওই সমাবেশ থেকে প্রায় চারশো জনকে আটক করা হয়। তুষার গান্ধীকে বান্দ্রা থেকে তুলে ডিএন নগর থানায় নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে পৌঁছে যান শিবসেনা (ইউবিটি) নেতা আদিত্য ঠাকরে। পরিস্থিতি সামাল দিতে দাদারের শিবাজি পার্কসহ একাধিক এলাকায় মহিলা পুলিশকর্মীসহ অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
দিল্লিতে নজিরবিহীন ধরপাকড় ও হাই-প্রোফাইল আটক
অন্যদিকে, জাতীয় রাজধানীতেও সকাল থেকে চূড়ান্ত অ্যাকশন মোডে নামে দিল্লি পুলিশ। যন্তর মন্তরে যোগ দিতে যাওয়ার পথে আটক হন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা সিপিআইএম পলিটব্যুরো সদস্য পিনারাই বিজয়ন, রাজ্যসভার সাংসদ জন ব্রিটাস, কেরলের প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী কে এন বালাগোপাল, সিপিআইএম সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি এবং পলিটব্যুরো সদস্য বৃন্দা কারাট।
মুম্বই থেকে দিল্লিগামী বিমানের ভেতর থেকেই CJP প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করে পুলিশ। আন্দোলন শুরুর আগেই গুরুগ্রামের বাড়ি থেকে জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকেও হেফাজতে নেওয়া হয়।
দিল্লি ও মুম্বই— দুই মেট্রো শহরে পুলিশের এই সাঁড়াশি অভিযানে আপাতত ছত্রভঙ্গ হয়ে গেছে CJP-র এই হাই-প্রোফাইল আন্দোলন। পুলিশ জানিয়েছে, আটক সকলের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া ও এফআইআর দায়ের করার কাজ শুরু হয়েছে।